এনএসসিতে তামিমদের অভিযোগ

বিসিবি নির্বাচন

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে দাবি করে এবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছে অভিযোগ করেছেন তামিম ইকবালসহ ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের শীর্ষস্থানীয় ৫০টি ক্লাবের কর্তারা। এ সময় তারা জানান, অভিযোগপত্রে বোর্ডকে অবৈধ দাবি করেননি, তবে তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।

গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে জয়লাভ করে বোর্ড গঠন করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের প্যানেল। নির্বাচনের আগেই স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ আনেন তামিমের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। তাদের অভিযোগ ছিল, বুলবুলের প্যানেলকে জয়ী করতে কাজ করেছেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া এবং সরকারের একটি মহল। বেশ কিছু অভিযোগের পর শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বয়কট করেন তামিমরা। বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে এনএসসির নতুন সভাপতি এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বরাবর চিঠি হস্তান্তর করেন তামিম। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী না থাকায় চিঠি গ্রহণ করেন ক্রীড়া প্ররিষদ স্টাফ। এ সময় তার সাথে ছিলেন ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, দেবব্রত পালরা।

এনএসসিতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তামিম বলেন, ‘আজকে আমরা একটা ফর্মাল কমপ্লেইন করতে এসেছি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ৭৬ ক্লাবের মধ্যে ৫০ ক্লাবই অভিযোগ জানিয়েছে যে নির্বাচন সঠিকভাবে হয়নি। এটাই তো অনেক কিছু প্রমাণ করে দেয়। আবাহনী-মোহামেডান সবচেয়ে বড় দু’টি ক্লাব, তারাসহ সবাই একমত।’

বিসিবির বর্তমান পর্ষদকে অবৈধ মানছেন কি না, জানতে চাইলে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘এটা তো সময় বলবে। সঠিক পথে আবেদন করেছি। এগুলো সবই সেকেন্ডারি। ক্লাবগুলো একমত না বলেই লিগগুলো অনিশ্চিত হয়ে আছে। খেলা হচ্ছে না আমরা ভুলেই যাই। বোর্ডকে উত্তর দিতে হবে খেলা কেন হচ্ছে না।’

তিনি আরো দাবি করেন, ‘১২ দল নিয়ে খেলছেন, ৮ দলে ১০০-১৫০ প্লেয়ার। সেকেন্ড ডিভিশন ও থার্ড ডিভিশনে আলাদা টুর্নামেন্ট করা হয়নি। প্রিমিয়ার লিগ না হলে কী হবে। এসব প্রশ্ন করতে হবে, উনাদের উত্তর দিতে হবে। উনারা কে কী করছে এসব নিয়ে ব্যস্ত। আমরা সঠিক পথে প্রক্রিয়া মেনে যাচ্ছি।’

নিজেদের যৌক্তিক দাবি করে বাকি সব উত্তর সময়ের হাতেই ছাড়ছেন ক্লাব কর্তারা। তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশের স্পোর্টসে নতুন স্ট্যান্ডার্ড সেট করা দরকার। আমরা সেভাবেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এখানে জোর জবরদস্তির কিছু নেই। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের কথা বা প্রমাণ যৌক্তিক। এর বেশি কিছু না।’

মোহামেডান ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামানও নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। ‘স্বাধীনতার পর বিসিবিতে এত খারাপ পরিস্থিতিতে নির্বাচন আর কখনো হয়নি। আমরা মাঠের মানুষ মাঠে ফিরতে চাই। ১৭-১৮ বছর পর দেশে এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাই আমরা ন্যায়বিচারের আশায় তদন্তের আবেদন করেছি।’

সাবেক বোর্ড পরিচালক ফাহিম সিনহা জানান, ‘আমরা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন করেছি। সেখানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন প্রতিনিধি থাকতে পারেন। কমিটির গঠন কিভাবে হবে, সেটি সরকার ঠিক করবে। কেন লিগগুলো হচ্ছে না, তার জবাব বোর্ডকে দিতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ায়ই এগোতে চাই এবং যথাযথ নিয়ম মেনেই বিষয়গুলো সামনে আনছি।’