ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে দালাল ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু

নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে টনক নড়েছে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের। গত ১৯ এপ্রিল নয়া দিগন্তে ‘ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে নানা অনিয়ম, ডিজিটাল পদ্ধতিতে এনালগ দুর্নীতি শীর্ষক’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরই সূত্র ধরে নড়েচরে বসেছে ভূমি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে সব বিভাগে নোটিশ দিয়ে দালাল ও অনিয়মের সাথে জড়িত চিহ্নিত সব চক্রকে শনাক্তকরণের কাজও শুরু হয়েছে। নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পরদিনই অর্থাৎ ২০ এপ্রিল জেলা রেজিস্ট্রার নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন থানা বা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারদের চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে- ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে যে, ভূমি অফিসে কর্মকর্ত এবং বহিরাগত অনেকেই নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র জানায়, মো:পুর থানা সাব রেজিস্ট্রার মো: আব্দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠিতে দেখা গেছে সেখানে কমরর্ত অনেকেই নিয়ম-কানুনের কোনো ধার ধারেন না। তারা যেকোনো উপায়ে দলিল গ্রহিতা কিংবা দলিল দাতাকে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েই দলিল সম্পাদন করছেন। একটি সূত্র জানায় এই অফিসে কাজ করেন আওলাদ হোসেন। তিনি একজন নকল নবিস হলেও তিনিন দীর্ঘ দিন থেকেই এ বিষয়ের কোনো কাজই করেন না। আওলাদ হোসেনের সিন্ডিকেটের দাপটে জেলা রেজিস্ট্রার নিজেই যেন এখন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে বহু সংবাদ প্রকাশ কিংবা উপরের মহল থেকে চাপ আসার পরেও জেলা রেজিস্ট্রার এখনো নির্বিকার। অবশ্য আওলাদের বালাম বই বা কাজের বিবরণী পর্যালোচনা করলেই ধরা পড়ে যাবে আসলে তিনি তার দায়িত্ব পালন না করেই শুধু ক্রেতা-বিক্রেতাদের অন্যায় ও অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার কাজেই নিজেকে ব্যস্ত রাখেন সারাদিন। সূত্র আরো জানায় এই আওলাদ হোসেন জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক সিন্ডিকেট। তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে এবং আধিপত্যের কারণে এখানে কেউ কোনো অন্যায় দেখলেও টুঁ শব্দটি পর্যন্তটি করেন না। এই আওলাদের নেতৃত্বেই এখানে কাজ করেন এমরান হোসেন, এনামুল, আরিফ ও শ্রাবনী নামের একজন মহিলা। তারা সবাই একই সিন্ডিকেট। তাদের পাশ কাটিয়ে সৎ এবং ন্যায়সঙ্গতভাবেও কোনো কাজ করতে পারেন না। অবশ্য ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার মুনশী মোকলেছুর রহমানও অসহায়। যদিও অভিযোগ রয়েছে আবদুল কাদের এবং আওলাদ হোসেনের অবৈধ উপার্জনের বড় একটি অংশ জেলা রেজিস্ট্রার এই মুনশী সাহেবও প্রতি মাসে পেয়ে থাকেন। সূত্র জানায়, জেলা রেজিস্ট্রার প্রতি মাসে ২১ জন সাব রেজিস্ট্রারের নিকট থেকে গড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা হাদিয়া হিসেবে গ্রহণ করেন। এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট বলে জানান অনেকে। বিশেষ করে যেসব নকল নবিস বালাম লিখেন না তাদের অতি দ্রুত কমপ্লেক্স থেকে বিতারণের জন্য জোর দাবি উঠেছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের সবাইকে অপসারণ করতে হবে। যদিও নিয়ম রয়েছে রেজিস্টার অফিসের নির্ধারিত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ কমিশন দলিল সম্পাদন করতে পারেন না। অথচ এই নকল নবিস আওলাদ হোসেন প্রতিনিয়তই কমিশন দলিল করতে নিয়মিতই বাইরে যাচ্ছেন। এখানে তার বড় অঙ্কের বাণিজ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দলিল লেখকগণ।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মুনশী মোকলেছুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি নিয়মিতভাবে সব সাব রেজিস্ট্রারের কাজের তদারকি করি। মো:পুর সাব রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়ে সেখানকার দালাল ও বহিরাগতদের বের করে দেয়ার জন্য নির্দেশও দিয়েছি। তিনি আরো বলেন পর্যায়ক্রমে সব সাব রেজিস্ট্রারকে একই ধরনের চিঠি দিয়ে দালাল নিমূল করা হবে। আর আমার বিরুদ্ধে তারাই অভিযোগ করছে যারা কোনো অন্যায় সুবিধা নিতে পারে না। তবে আমি সব সময়ই সত্যের পথে রয়েছি। যত দিন দায়িত্বে থাকবো অন্যায়ের সাথে কোনো আপস করব না।