আতঙ্কে শত শত পরিবার

কালীগঞ্জে ছাদ ছুঁই ছুঁই ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইন

Printed Edition
বাড়ির ছাদঘেঁষে চলে গেছে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন : নয়া দিগন্ত
বাড়ির ছাদঘেঁষে চলে গেছে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন : নয়া দিগন্ত

রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার আড়পাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুরসহ আশপাশের এলাকায় দুই শতাধিক পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এসব এলাকার বসতঘরের ছাদ ও চালের ওপর দিয়ে ঝুলে আছে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন। কোথাও কোথাও ছাদ থেকে তারের দূরত্ব মাত্র দুই-আড়াই ফুট। এতে শিশু-বৃদ্ধসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪৫ বছর আগে এলাকাটি ফাঁকা থাকাকালে লাইনটি স্থাপন করা হয়। পরে ঘনবসতি গড়ে উঠলেও বিদ্যুতের লাইন সরানো বা নিরাপদ দূরত্বে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরনো লাইনের কিছু অংশে তার ঝুলে পড়ায় ঝুঁঁকি আরো বেড়েছে।

সরেজমিন আড়পাড়া, নদীপাড়া, মধুভাজাপট্টি, কোটচাঁদপুর রোড, মাঠপাড়া, দরগাপাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুর এলাকায় দেখা যায়, অসংখ্য বাড়ির ওপর দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের লাইন গেছে। কোথাও তার ছাদের এত কাছে যে ছাদে ওঠা, কাপড় শুকানো কিংবা ঘর মেরামতের কাজও ঝুঁঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে অনেক পরিবার ছাদে ওঠার সিঁড়িটি বন্ধ করে দিয়েছে।

আড়পাড়া দরগাপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, এলাকার বহু বাড়ির ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের তার ঝুলছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। নদীপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা মো: শওকত আলী বলেন, লাইন স্থাপনের সময় এলাকায় তেমন বাড়িঘর ছিল না। গত তিন দশকে বাড়িঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চার-পাঁচজনের মৃত্যু এবং কয়েকজন আহত হয়ে আছেন বলে তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজগর আলী বলেন, ২০২৩ সালে কালুখালী গ্রামের এক রংমিস্ত্রি নদীপাড়ায় বাড়িতে রং করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এ কারণে অনেক পরিবার ছাদে ওঠার সিঁড়ি বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁঁকিপূর্ণ এ লাইন জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করছে। লাইনের নিচে থাকা জমিতে অনেকে বাড়ি নির্মাণ করতে পারছে না।

তাদের দাবি, লাইনটি প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উন্নীত করা, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা অথবা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে সড়কের পাশে নেয়া হোক।

কালীগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার জয়দীপ সরকার বলেন, লাইনটি অনেক পুরনো। এটি সরানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।