চট্টগ্রাম ব্যুরো
সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন আজ রোববার। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে কয়েকটি কর্মসূচিতে যোগ দেয়া ছাড়াও নগরীতে বিএনপি নেতাদের সাথেও মতবিনিময় করবেন তিনি। বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, দলীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময় ছাড়াও এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সাথে একটি বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী এক দিনের সফরে চট্টগ্রামে আসছেন। তার সফর ঘিরে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সাতটি ভেন্যুর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। গতকাল শনিবার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর কয়েকটি ভেন্যু পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বাঁশখালী যাবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ি পৌঁছাবেন। পরে ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারী হয়ে চট্টগ্রাম নগরে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) কাজ করছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দায়িত্ব পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচল নির্বিঘœ করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রী আজ বেলা ২টায় ফটিকছড়ি উপজেলায় আলজামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হাটহাজারী উপজেলার আলজামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় (হাটহাজারী বড় মাদরাসা) গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফির কবর জিয়ারত করবেন।
এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখান থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন এবং সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। রাত ১০টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি।
বুলেটপ্রুফ বাস চট্টগ্রামে : এ দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসটি চট্টগ্রামে এসেছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, গতকাল দুপুরে বাসটি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছে। বাসটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে।
ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি : এ দিকে বিকালে পরিদর্শক থেকে উপকমিশনার পর্যন্ত সব কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রস্তুতির সর্বশেষ সভা করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নগরীতে আড়াই থেকে তিন হাজার পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রিজার্ভ ফোর্স থেকে ৫০০ সদস্য থাকবে।
এ দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, জেলায় প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথ এবং সফরের ভেন্যু মিলিয়ে পুলিশের আড়াই হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া র্যাবসহ আরো বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন।



