নিকলীতে বালু দিয়ে শতবর্ষী জলাশয় ভরাট তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

Printed Edition
উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে শতবর্ষী পুকুর ভরাটের দৃশ্য	: নয়া দিগন্ত
উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে শতবর্ষী পুকুর ভরাটের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

আলি জামশেদ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু দিয়ে শতবর্ষী পুকুর, জলাশয় ও ফসলি জমি ভরাটের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ দিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চলছে। অভিযোগ রয়েছে, বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের অর্থের অলিখিত চুক্তিও হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে রাতের আঁধারে ধনু ও ঘোড়াউত্রা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে স্টিলের নৌকায় বিভিন্ন স্থানে এনে ভরাট করা হচ্ছে। এতে শতবর্ষী পুকুর, জলাশয় ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রাকৃতিক জলাধার ও মাছের আবাসস্থলও বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

নিকলী সদর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের একটি পুরনো পুকুর ভরাটের ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী নাইম অভিযোগ করেন, নিকলীর শতবর্ষী পুকুর ও সরকারি জমি ভরাটের কাজ প্রকাশ্যেই চলছে। তার দাবি, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।

সরেজমিন দেখা গেছে, নিকলী সদরের নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন দরগা এলাকার একটি পুরনো পুকুর, নগর এলাকার নাগারছা হাটির মসজিদসংলগ্ন প্রাচীন পুকুরসহ আরো কয়েকটি জলাশয়ে ভরাট কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এ ছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের সামনের সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে।

অন্যদিকে পাশের বাজিতপুর উপজেলার হিলোচিয়া এলাকায়ও অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু মজুদ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হিলোচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জুলফিকার আহমেদ মার্বিন বলেন, গত বছর একই ধরনের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের প্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরও একই কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, গত বছরও বিভিন্ন নদী থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে জলাশয় ভরাট ও জমির শ্রেণী পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় পরিবেশসচেতন ব্যক্তিদের মতে, হাওরবেষ্টিত নিকলীর প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলাশয় ও কৃষিজমি এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। পরিকল্পনাহীনভাবে পুকুর ও ফসলি জমি ভরাট অব্যাহত থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন এবং সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আমির উদ্দিন আহমেদের বাড়ির সামনের শতবর্ষী পুকুর ভরাটের বিষয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, পুকুরটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। তবে প্রয়োজনের কারণে তিনি এর একটি অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমান মালিকরা কিভাবে বা কোন শর্তে ভরাট করছেন, সে বিষয়ে তার জানা নেই এবং এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শহীদ উল্লাহর সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তির সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।