সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

জাল সনদধারী শিক্ষকদের চিহ্নিত করা হচ্ছে

Printed Edition
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে বাংলাদেশে ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাক্ষাৎ করেন  :  পিআইডি
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে বাংলাদেশে ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জাল সনদধারী শিক্ষকদের চিহ্নিত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি একইসাথে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে সম্পন্ন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

গতকার বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে সম্পন্ন করার উদ্যোগ, আর্থিক স্বচ্ছতাসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, জাল সনদধারী শিক্ষক চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের র‌্যাংকিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন জানান, সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ সমন্বিত প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষক স্বল্পতা নিরসনে শূন্য পদের তালিকা পিএসসিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম ও অ্যাকাডেমিক তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ইমপ্যাক্ট ইভ্যালুয়েশন’ বা প্রভাব মূল্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকার মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: সেলিম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একক এখতিয়ারভুক্ত নয়; বরং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যমান নীতিমালা এবং জাতীয় বাজেটের সাথে এটি ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী বেসরকারি কলেজ সরকারীকরণ বা জাতীয়করণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে জাতীয়করণ করা কলেজগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত শর্তাবলী যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে এবং প্রযোজ্য বিধি-বিধান অনুসরণ করে তাদের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। তাই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন মোট ২৪ হাজার ৩২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে এখনো দেশের ৪ হাজার ৫৯টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ করা হয়নি। চলতি অর্থবছরে প্রতিটি সংসদীয় আসনে একটি স্কুল, একটি কলেজ ও একটি বেসরকারি মাদ্রাসা বা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট উপজেলায় একসাথে একাধিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত বর্তমানে নেই।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানান, দেশের দুই হাজার ৮৪৭টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে এবং সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগে। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাওয়া গেলে এবং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও এ সংক্রান্ত শর্তাদি বিবেচনা সাপেক্ষে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দেশের ২৮৩৯টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের দুই হাজার ৮৩৯টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

গতকাল জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা দুই হাজার ৮৩৯টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৩৫৫টি, রংপুর বিভাগে ৩৭টি, খুলনা বিভাগে ৩৪৯টি, বরিশাল বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি গ্রাম রয়েছে।