মাদরাসাছাত্র খুনের রহস্য উন্মোচন

গাঁজা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় হত্যা

Printed Edition

জয়দেবপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা

জঙ্গলে বসে গাঁজা সেবন করছিল স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ছাব্বির আহমেদ, সেই জঙ্গলের পাশ দিয়ে প্রতিদিনের মতো মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন এলাকার একটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩)। নিষ্পাপ শিশুটি দেখে ফেলে গাঁজা সেবনের দৃশ্য এবং এই কথা অন্যদের বলে দেবে বলায় ঘটনাস্থলেই তাকে ঘাড় মটকে মাটিতে ফেলে গলা চেপে হত্যা করে ঘাতক ছাব্বির। পরে লাশ জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে আগুনে জ্বালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক ছাব্বির।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে স্থানীয় মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাগ মিয়ার ছেলে মাহাবুব ইসলাম রনি। সে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর (পূর্বপাড়া) এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমি মাদরাসা ও ইয়াতিমখানার নাজেরা বিভাগে শিক্ষার্থী ছিল। নিখোঁজের পরদিন স্থানীয় একটি জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী। নিহতের মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত আগুনে পোড়া অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের দাদা তারা মিয়া বাদি হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।

থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে গত বৃহস্পতিবার রাতে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ছাব্বির আহমেদকে গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতার ছাব্বির আহমেদ (১৯) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নিজতুলন্দও গ্রামের দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে। শুক্রবার ছাব্বিরকে আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।