আত্মবিশ্বাসী বসনিয়ার নজর শীর্ষ স্থানে

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘বি’-তে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সমীকরণ এখনো পুরোপুরি খোলা। প্রথম ম্যাচে কেউ জিততে পারেনি, তবে কেউ হারেওনি। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডের আগে চাপ ও সম্ভাবনা দুটোই সমানভাবে বহন করছে দলগুলো। এমন পরিস্থিতিতে আজ রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া। ম্যাচটি দুই দলের জন্যই নকআউট পর্বের পথে বড় মোড় তৈরি করতে পারে।

গ্রুপের শুরুতে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখা হচ্ছিল সুইজারল্যান্ডকে। সেই প্রত্যাশার কারণে কাতারের বিপক্ষে তাদের ড্র কিছুটা হতাশাজনক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। ম্যাচের শুরুতে অবশ্য নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি সুইসদের হাতে। ২০ মিনিটে ব্রিল এম্বোলোর পেনাল্টি গোলে এগিয়েও যায় তারা। এরপর বল দখল, আক্রমণ তৈরি এবং সুযোগ সৃষ্টি সব কিছুতেই এগিয়ে ছিল মুরাত ইয়াকিনের দল। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যাটা ছিল সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা।

একাধিক পরিষ্কার সুযোগ নষ্ট করার মূল্য শেষ পর্যন্ত চুকাতে হয়েছে সুইসদের। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে গোল হজম করে ১-১ ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ছিল, একটি ম্যাচ যেখানে তারা আধিপত্য করেছে, সেখানে তিন পয়েন্ট না পাওয়া।

তবে সুইজারল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক বিষয়ও রয়েছে। গ্রুপের অন্য ম্যাচেও ড্র হওয়ায় এখনো কোনো দল এগিয়ে যেতে পারেনি। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলেই তারা কার্যত নকআউট নিশ্চিত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। কারণ শেষ ম্যাচে তাদের অপেক্ষা করছে আয়োজক কানাডার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা।

কোচ মুরাত ইয়াকিন সম্ভবত প্রথম ম্যাচের মূল কাঠামোতে খুব বেশি পরিবর্তন আনবেন না। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেবেন মানুয়েল আকাঞ্জি ও নিকো এলভেদি। মাঝমাঠে দলের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করবেন অভিজ্ঞ গ্রানিত জাকা। আক্রমণে আবারো বড় ভরসা থাকবেন ব্রিল এম্বোলো। তবে প্রথম ম্যাচে আক্রমণের ধার কম থাকায় সামনে পরিবর্তন আসতে পারে। বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় আছেন নোয়া ওকাফর ও জোহান মানজাম্বি।

অন্য দিকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার শুরুটা ফলাফলের দিক থেকে ইতিবাচক হলেও আক্ষেপও রয়েছে। টরন্টোয় আয়োজক কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনেকেই তাদের আন্ডারডগ হিসেবে দেখছিল। কিন্তু ম্যাচের বড় অংশে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলেছে সার্জেই বারবারেজের দল।

প্রথমার্ধে জোভো লুকিচের হেডে এগিয়ে যায় বসনিয়া। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে কানাডা একের পর এক আক্রমণ চালালেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত রক্ষণ সামলে রাখে তারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৭৮ মিনিটে সাইল লারিন গোল করে কানাডাকে সমতায় ফেরান।

ম্যাচ শেষে ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার কারণ ছিল প্রতিপক্ষের মান ও ম্যাচের চাপ। কিন্তু একই সঙ্গে আক্ষেপও ছিল আর মাত্র কয়েক মিনিট ধরে রাখতে পারলে গ্রুপের শীর্ষে এককভাবে উঠে যেতে পারত তারা। তবে বসনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি এখন আত্মবিশ্বাস। দলটি শেষ নয় ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে এবং সর্বশেষ ছয় ম্যাচই ৯০ মিনিট শেষে ড্র করেছে। এই ধারাবাহিকতা তাদের বিশ্বাস দিচ্ছে যে চার পয়েন্টে পৌঁছানো সম্ভব, যা নকআউটের পথ প্রায় নিশ্চিত করে দিতে পারে।

তবে ম্যাচের আগে কিছু দুশ্চিন্তাও আছে। কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সিয়াদ কোলাশিনাচ। যদিও তার অবস্থা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।