আব্দুল মোমেন নালিতাবাড়ী (শেরপুর)
সীমান্তবর্তী শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড় ও সমতল ভূমিতে অর্থকরী ফসল হিসেবে কফি চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ ও কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণের ফলে এলাকায় ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষের পরিধি বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কফির চারা রোপণের প্রায় তিন বছর পর ফলন শুরু হয়। পূর্ণ বয়স্ক একটি গাছ থেকে বছরে গড়ে পাঁচ থেকে সাত কেজি কাঁচা কফি পাওয়া যায়। প্রতি একর জমিতে প্রায় ৭০০টি চারা রোপণ করা যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা কফি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে একরপ্রতি বছরে তিন থেকে পাঁচ হাজার কেজি ফলন হলে কৃষকের আয় কয়েক লাখ টাকা হতে পারে।
এ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ‘অ্যারাবিকা’ ও ‘রোবাস্টা’ জাতের কফি চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, পাহাড়ি এলাকায় রোবাস্টা জাতের কফি চাষের উপযোগিতা বেশি। মার্চ-এপ্রিল মাসে গাছে ফুল আসে। মে-জুনে ফুল থেকে ফল এবং আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফল পরিপক্ব হয়। পরিপক্ব ফল সংগ্রহের পর শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন তুলিপ বলেন, বান্দরবানে চাকরির সময় কফি চাষের প্রক্রিয়া দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। পরে ২০২১ সালে চাকরি ছেড়ে এলাকায় ফিরে দু’জন কৃষককে নিয়ে কফি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে শতাধিক কৃষক এতে যুক্ত হয়েছেন। এখানকার কফি প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। গত বছর নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিনিধিদল নালিতাবাড়ীর উৎপাদিত কফি নিয়ে গবেষণা করছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘গারো পাহাড়ে গাছের ছায়ায় কফি চাষের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। সে কারণে কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় গত দুই অর্থবছরে ১২০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।



