সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ

মুহা: জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা
Printed Edition
সাতক্ষীরায় একটি তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন  : নয়া দিগন্ত
সাতক্ষীরায় একটি তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন : নয়া দিগন্ত

সাতক্ষীরায় হঠাৎ জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে জেলার অধিকাংশ ফিলিংস্টেশনে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে এই সঙ্কটের মধ্যেই পাম্পের বাইরে গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

গত সোমবার সকালে শহরের একাধিক পেট্রলপাম্প ঘুরে দেখা যায়, তেল বিক্রির মেশিনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ টানানো। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ে আসা গ্রাহকদের অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্যও দিতে পারছেন না পাম্প কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, পাম্পে তেল না থাকলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে তেল বিক্রি হচ্ছে। এসব তেল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রতি লিটার পেট্রল ২০০ টাকা এবং অকটেন ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, পাম্পে তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই এসব দোকান থেকে চড়া দামে তেল কিনছেন। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও পাম্পসংশ্লিষ্ট লোকজন পরিকল্পিতভাবে তেল মজুদ রেখে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছেন, পরে রাতে তা ড্রামে ভরে বাইরে সরবরাহ করছেন।

আশাশুনি উপজেলার বুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ জানান, মোটরসাইকেলে তেল নিতে শহরে এসে কোনো পাম্পেই তিনি তেল পাননি। বাড়ি ফেরার মতো তেল না থাকায় বিপাকে পড়ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক বলেন, দুই-তিন দিন ধরে পাম্পে ঘুরছি, তেল পাই না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে।

আশাশুনির আনুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হুসাইন আলী বলেন, ঈদের আগে নতুন মোটরসাইকেল কিনলেও তেলের অভাবে তা ব্যবহার করতে পারছেন না। তিনি জানান, সাতক্ষীরায় তেল না পেয়ে যশোরে গিয়ে কয়েকটি পাম্প ঘুরে অবশেষে অনানুষ্ঠানিকভাবে ৫ লিটার পেট্রল কিনতে হয়েছে, যার জন্য প্রায় দুই হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে তার।

তবে পাম্প মালিকেরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। শহরের সংগ্রাম ফিলিং স্টেশনের এক ব্যবস্থাপক বলেন, ‘আমাদের পাম্পে যতক্ষণ তেল থাকে, নিয়ম মেনে বিক্রি করা হয়। নতুন চালান না আসায় সাময়িক সঙ্কট তৈরি হয়েছে।’

জানা গেছে, জেলাপর্যায়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি বাজারে অনিয়ম ও নজরদারির অভাব সঙ্কটকে আরো তীব্র করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ দিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সোমবার শহরের একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত গ্রাহকরা জানান, পাম্পে তেল না থাকলেও বাইরে বেশি দামে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, পাম্পে তেল না থাকলে বাইরে আসছে কোথা থেকে? সংসদ সদস্য বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার বলেন, জ্বালানি তেল সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসনের ভিজিল্যান্স টিম মাঠে কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি কালোবাজারি বন্ধে অভিযান জোরদার করার কথাও জানান তিনি।

স্থানীয় অনেকের মতে, পরিকল্পিতভাবে সঙ্কট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। একই সাথে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত না হলে জনভোগান্তি আরো বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।