ছাত্র গণজমায়েতে হুঁশিয়ারি

ছাত্রদলকে না সামলালে পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদলের হামলা ও সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্তমান সরকারের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক নেতারা। একই সাথে তারা ৫ আগস্টের গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

গতকাল বুধবার রাজধানীর টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্রশিবির আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে এ দাবি ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে প্রকৃত ছাত্র নয়, বহিরাগত ও অছাত্রদের ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং আহত শিক্ষার্থীদের ওপর হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকলেও পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নেয়নি।

সাদ্দাম বলেন, ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম টানা না হলে ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করা হবে।’ তিনি দাবি করেন, শিক্ষাঙ্গনে হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান বজায় থাকবে।

সাবেক সংসদ সদস্য ও শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, শিক্ষাঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দখল, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, ছাত্রসংসদ নির্বাচনে আদর্শিকভাবে পরাজিত হয়েই ছাত্রদল সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। সরকারের প্রতি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে জুলাই বিপ্লব ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, শিক্ষাঙ্গনের সন্ত্রাস বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সাথে তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ভালো করেই চেনে। তারা জানে বলেই গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে চলমান গণ-অভ্যুত্থানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ইসলামী ছাত্রশিবির চরম ধৈর্য, সাহসিকতা ও প্রজ্ঞার সাথে চলমান গণ-আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে শেখ হাসিনার পতন ত্বরান্বিত করাকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিল।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, এই দল গত ছয় মাসে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ওই দলের ছাত্রসংগঠন গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সময়ের মতো টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, হলদখল ক্যাম্পাস দখল করতে পারেনি। এই জন্য দফায় দফায় হামলায় চালিয়েছে। ছাত্রলীগ আর ইসরাইলের মতো ছাত্রদল হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালানায় এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুল রহমান, প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ।