রয়টার্স
ইসলামী বিশ্ব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কাঁচামাল কুক্ষিগত করতে প্রতিপক্ষ শক্তিগুলো চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেয়া ‘অন্যায্য অর্থনৈতিক অবরোধ’ নস্যাৎ করতে সমন্বিত রূপরেখা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে উপস্থিত হয়ে ইরানি ও ইরাকি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এক যৌথ সভায় এই বক্তব্য পেশ করেন কালিবাফ। সমাবেশে তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর খনিজ ও মৌলিক সম্পদের পরিমাণের দিকে নজর দিলেই তাদের অপচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই এই বৈরী অবরোধ কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট কৌশল প্রণয়ন জরুরি। ইরানের এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকের দাবি, ক্ষেত্রবিশেষে সরাসরি সামরিক লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থান না পেয়ে ওয়াশিংটন ও ইসরাইল যৌথভাবে অর্থনৈতিক সঙ্ঘাত ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে।
বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ একে-অপরের পরিপূরক। পাশাপাশি তিনি তেহরান ও বাগদাদের মধ্যকার আর্থিক লেনদেন প্রসারের ওপর তাগিদ দেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্ব স্ব জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধাজনক কাঠামোর প্রস্তাব রাখেন তিনি। সংবাদটির নেপথ্যে উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের অর্থনীতিকে টার্গেট করে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সোমবার এই নতুন পদক্ষেপের বিশদ তথ্য সামনে আনা হবে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের ওপর অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের বাধ্যবাধকতা কমানো সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনের সাথেবিদ্যমান আলোচনায় তেহরানের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন কালিবাফ।



