ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির

Printed Edition

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ও দামুড়হুদা সংবাদদাতা

দেশের অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল যখন বছরের পর বছর লোকসান গুনছে, তখন ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। প্রশাসনিক সংস্কার, অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের ফলে ৮৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে চিনি বিভাগে লোকসান প্রায় ৬০ কোটি ২০ লাখ টাকা।

সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, চিনি কারখানায় সম্ভাব্য লোকসান হয়েছে ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে ডিস্টিলারি ইউনিটের ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকার মুনাফা সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া জৈব সার ইউনিট থেকে এক কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার, ফার্ম থেকে পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, আকন্দবাড়ীয়া ইউনিট থেকে সাত লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্ম থেকে তিন লাখ ৭৯ হাজার টাকা আয় হয়েছে। সব মিলিয়ে চিনি বিভাগের লোকসান বাদ দিয়ে সম্ভাব্য নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে নেয়া সমন্বিত উদ্যোগই এ সাফল্যের প্রধান কারণ। টেন্ডার ও ট্যাপ চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধ, সিসিটিভি স্থাপন, সীমানাপ্রাচীরে কাঁটাতার নির্মাণ এবং অনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত বন্ধ করে অপচয় কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ডিস্টিলারি ইউনিটে অটোমেশন, স্বয়ংক্রিয় বোতলজাতকরণ প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং চিনি ও জৈব সার উৎপাদনে রিকভারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, বিদেশী মদের আমদানি কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে কেরুপণ্যের চাহিদা বেড়েছে। ঢাকা ও শ্রীমঙ্গলের মতো বড় গুদামে সরবরাহ ঠিক রাখতে উৎপাদন বাড়াতে হচ্ছে। বর্তমানে কারখানাগুলোর বার্ষিক সম্মিলিত উৎপাদনমতা এক কোটি ৩৫ লাখ প্রুফ লিটারে উন্নীত হয়েছে।

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে নয় ধরনের অ্যালকোহলিক পানীয় ছাড়াও মল্ট ভিনেগার, হোয়াইট ভিনেগার ও জৈব সার উৎপাদিত হচ্ছে। চিনি বিভাগের লোকসান কমাতে আখের মূল্য বৃদ্ধি, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) দিকনির্দেশনায় আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করে এ বিভাগকেও লাভজনক করার আশা করছেন কর্তৃপ।