এক মাস আমদানি-রফতানি বন্ধ শেওলা স্থলবন্দরে

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দরে গত এক মাস ধরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য। ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা, ভারতীয় ভিসা জটিলতা এবং সীমান্তের ওপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ার প্রভাব পড়েছে এ বন্দরের কার্যক্রমে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমেছে।

বন্দর সূত্র জানায়, শেওলা স্থলবন্দর দিয়ে সাধারণত ভারত থেকে কয়লা, পাথর, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে খাদ্যপণ্য, হস্তশিল্প, বেত ও তাঁতের তৈরি সামগ্রী, ফলমূল, প্রাণিজ পণ্য, হিমায়িত মাছ, শুঁটকি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রফতানি হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে অধিকাংশ রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শতাধিক ব্যবসায়ীর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত সরকারের আরোপিত কিছু পণ্যের রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে বন্দরের কার্যক্রমে আবারো গতি ফিরতে পারে। এছাড়া ভারতীয় ভিসা জটিলতা নিরসন হলে নতুন বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেওলা স্থলবন্দর থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা বেশি। রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিয় দাসী বলেন, চলতি অর্থবছরের জন্য এখনো রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে জুলাই মাসজুড়ে ভারতীয় অংশের সেতু ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ভারতীয় বাজারে অনিশ্চয়তা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা হলেও তার অগ্রগতি সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।

শেওলা স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহবুব হাসান বলেন, বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।