নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দিনাজপুর, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রামে পৃথক চার সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু, শিক্ষকসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুইজন।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে পৃথক দু’টি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল দিনাজপুর শহরতলীর লক্ষ্মীতলা এলাকায় একজন ও বীরগঞ্জ উপজেলার বীরগঞ্জ-পীরগঞ্জ সড়কের কমোর রাইস মিল সংলগ্ন এলাকায় আরো দুইজন নিহত। তারা হলেন- দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও আল ফালাহ আ’ম উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি এনজিও কর্মকর্তা আনিসুর রহমান (৫৯), বীরগঞ্জের মহুগাঁও বাজার এলাকার তারিনী বর্মণ (৩৫) ও স্ত্রী ইতি রানী (২৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যার আগে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের লক্ষ্মীতলা এলাকায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া করে মোহনপুর ব্রিজ এলাকায় চালক ও হেলপারসহ ট্রাকটিকে আটক করে। এর আগে সকালে বীরগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী নিহত হন। পুলিশ জানায়, বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক্টর মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তারিনী বর্মণ নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী ইতি রানীকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
নেত্রকোনার প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলায় চলন্ত লরির ধাক্কায় সাব্বির (১১) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বামনগাঁও সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাব্বির ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বামনগাঁও সড়কে একটি লরির ধাক্কায় সাব্বির ছিটকে পড়ে কাতরাতে থাকে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান,
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় উত্তর পদুয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক সহকারী শিক্ষক নিহত হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ নুরুল কবির (৩৪)। তিনি বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা। মঙ্গলবার রাতে পদুয়া উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা যায়, উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের রাজারহাট বাজার থেকে রাত ৮টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসার পথে শিক্ষক নুরুল কবির গাড়ি থেকে নিচে পড়ে আহত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মিরসরাইয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সবজিবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় শামসুল আলম (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
আহত হয়েছেন ট্রাক চালকসহ দুইজন। গতকাল ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের চিনকী আস্তানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শামসুল আলম বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সুলতান সওদাগরের ছেলে। আহতরা হলো ট্রাকচালক রবিউল হোসেন (৩৩) ও তার সহকারী এমরান হোসেন (১৭)। তারা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানায়, বুধবার ভোরে বারইয়ারহাট পৌরসভার চিনকী আস্তান এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সবজিবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে চালক, সহকারী ও সবজি ব্যবসায়ী আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে পাঠান।



