রায়ের মূল ফলাফল
মোট অভিযোগ : ৮টি
প্রমাণিত অভিযোগ : ৩টি
(৩, ৬ ও ৭ নম্বর চার্জ)
খালাসপ্রাপ্ত অভিযোগ : ৫টি
(১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর চার্জ)
চূড়ান্ত সাজা : ১০ বছরের সশ্রম
কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা। ৩টি অপরাধে আলাদাভাবে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের সাজা হলেও তা ‘যুগপৎ’ বা একসাথে চলায় আসামিকে ১০ বছর
সাজা খাটতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার মোট আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ডে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে এই সাজা প্রদান করেন। সাজাগুলো একযোগে (যুগপৎ) চলবে বিধায় ইনুকে সব মিলিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে রায় ও সাজা ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক নাটকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদালত কক্ষেই রায় শুনে হাসেন হাসানুল হক ইনু বাইরে এসে উচ্চকণ্ঠে একে প্রধানমন্ত্রী ‘তারেক রহমানের ফরমায়েশি রায়’ বলে আখ্যা দেন।
রায় উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সুপ্রিম কোর্টসংলগ্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও টানটান উত্তেজনা। বেলা ১টা ৫০ মিনিটে প্রসিকিউশনের আবেদনে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রায়ের বিবরণ সরাসরি সম্প্রচার শুরু হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এজলাসে আসন গ্রহণ করার পর মামলার রায় পড়া শুরু করেন।
সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত হাসানুল হক ইনুকে যখন কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, তখন তাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। রায়ের শুরুতে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, আসামি হাসানুল হক ইনু নিজে সরাসরি কোনো সশরীরে অভিযানে অংশ নিয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ (এভিডেন্স) পাওয়া যায়নি। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে টেলিফোন কথোপকথন এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্দোলনে উসকানি দিয়েছেন।
আদালত যখন তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা ঘোষণা করেন, তখন আদালত কক্ষে এক মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে আসে। কিন্তু এর পরপরই যখন বিচারক স্পষ্ট করেন, আসামির সব সাজা ‘যুগপৎ’ বা একসাথে চলবে (অর্থাৎ ৩০ বছরের সাজা মূলত ১০ বছর খাটলেই হবে), তখন কাঠগড়ার ভেতরে ইনুর মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তিনি অত্যন্ত উৎকফুল্ল ভঙ্গিতে কাঠগড়ার ভেতর থেকেই দুই হাতের ১০টি আঙুল উঁচিয়ে উপস্থিত আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের দিকে তাকিয়ে বুঝিয়ে দেন যে সাজা আসলে মাত্র ১০ বছর।
যে ৩টি সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ডে সাজা পেলেন ইনু
আদালত তার রায়ে আসামির বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগের আইনি গ্রাউন্ড বা ভিত্তি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন: ১. ৩ নম্বর চার্জ (নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের গ্রাউন্ড): জুলাই আন্দোলনের সময় ভিডিওচিত্র দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোনে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেই তালিকা অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের খুঁজে বের করতে, আটক করতে এবং নির্যাতন করতে। এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মামলার সাক্ষী রাইসুল হকসহ অন্য ভিকটিমরা গুরুতর আহত ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। আদালত একে ‘রাজনৈতিক কারণে নিপীড়ন’ এবং ‘নির্যাতন’ হিসেবে গণ্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ধারা অনুযায়ী ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। ২. ৬ নম্বর চার্জ (মানবতাবিরোধী অপরাধে ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার গ্রাউন্ড): ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হাসানুল হক ইনু জাসদ সভাপতি হিসেবে সেই অপরাধমূলক চক্রান্তের বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সেখানে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার আড়ালে জামায়াত-বিএনপিসহ আন্দোলনকারী সাধারণ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ‘নির্মূল’ ও হত্যার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্ররোচনা দেয়া হয়। এই সভায় উপস্থিত থেকে অপরাধের পরিকল্পনা ও উসকানি দেয়ার গ্রাউন্ডে আদালত তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। ৩. ৭ নম্বর চার্জ (টেলিফোনে মানবতাবিরোধী অপরাধের চুক্তির গ্রাউন্ড): শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ৪ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে হাসানুল হক ইনুর দু’টি অডিও কথোপকথন বা টেলিফোন কল রেকর্ড উদ্ধার করা হয়। সেখানে দেখা যায়, শেখ হাসিনা যখন ইনুকে বলেন যে তিনি এর আগে ‘জঙ্গিদের ফাঁসি দিয়েছেন’, তখন ইনু তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে বলেন, ‘কারেক্ট’ এবং এইবারও সরকারকে ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার পরামর্শ দেন। আন্দোলনকারীদের দু’টি ভাগে ভাগ করে জামায়াত-বিএনপি চিহ্নিত করে নির্বিচারে নির্মূল করার জন্য শেখ হাসিনাকে উসকানি ও কু-পরামর্শ দেয়ার এই গ্রাউন্ডে আদালত তাকে আরো ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
অন্য দিকে, যথাযথ তথ্য-প্রমাণ ও চাক্ষুষ সাক্ষ্যের অভাব থাকায় ১, ২, ৪, ৫ এবং ৮ নম্বর অভিযোগ (যার মধ্যে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগটি ছিল) থেকে হাসানুল হক ইনুকে খালাস প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
‘তারেক রহমানের ফরমায়েশি রায়’
রায় ঘোষণা শেষে এজলাস কক্ষের ভিড় কিছুটা কমে এলে পুলিশ সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী হাসানুল হক ইনুকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তার হাত ধরতে যান। এ সময় ইনু উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের হাত সরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমার হাত ধরবেন না।’ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য নুরু নবী তখন বিনীতভাবে বলেন, ‘স্যার, এটা তো নিয়ম, তাই ধরতে হচ্ছে।’
ঠিক ওই মুহূর্তে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এজলাস কক্ষ থেকে বের হচ্ছিলেন। তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখে হাসানুল হক ইনুকে বাইরে নেয়ার সময় চিল্লাপাল্লা বা বিশৃঙ্খলা না করার অনুরোধ করেন। এই কথা শুনে ইনু আবারো উপহাসের হাসি হাসেন। এরপর পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে করিডোর ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে যাওয়ার সময় ইনু উচ্চকণ্ঠে এই বিচারকে ‘প্রহসনের বিচার’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তিনি বলেন ‘প্রহসনের এই আদালতে ফরমায়েশি এই রায়ের আমি নিন্দা করি। ইতিহাসে লেখা থাকবে, ‘৭৬ সালে জিয়ার আমলে আরেকটা ফরমায়েশি রায় আমাকে দেয়া হয়েছিল। আর আজ তার ছেলে, তারেক রহমানের আমলে আরেকটি ফরমায়েশি রায়ে আমাকে সাজা দেয়া হলো।’
আমরা এই রায়ে মোটেই সন্তুষ্ট নই : চিফ প্রসিকিউটর
রায় পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আসামির বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং ‘ফরমায়েশি রায়’ সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক জবাব দেন। ইনুর বক্তব্যের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু একজন প্রখ্যাত ব্যক্তি হতে পারেন, কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এই দেশটাকে এবং একটি সরকারকে ধ্বংস করার পেছনে তিনি ছিলেন অন্যতম কুশীলব। সে তার কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনাকে বিভ্রান্ত করেছেন, জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে। যার ফলশ্রুতিতে আজকে আওয়ামী লীগের এই অধঃপতন হয়েছে। এই ইনুদের মতো কিছু দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী নেতৃত্বের কারণেই আমাদের এই জুলাইয়ের মধ্যে নির্মম হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে এবং দেশের শাসনব্যবস্থা বিনষ্ট হয়েছে। সুতরাং, তিনি আদালতের বাইরে এসে যেভাবে বর্তমান সরকার ও দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের নাম ধরে ‘ফরমায়েশি রায়’ বলে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, আমরা মনে করি এই আদালত অবমাননাকর বক্তব্যের জন্যও তার বিরুদ্ধে আলাদাভাবে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
চিফ প্রসিকিউটর মামলার রায়ের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছিল। ১০ জন সাক্ষী এবং প্রচুর অডিও-ভিডিও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রসিকিউশন প্রতিটি চার্জ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিল।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আসামি নিজেই আদালতে দু’জন সাফাই সাক্ষী দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মিরর’ এবং ‘নিউজ ২৪’-এ দেয়া তার উসকানিমূলক বক্তব্য ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে অডিও রেকর্ডগুলোর সত্যতা স্বীকার করেছিলেন। যেখানে আসামি নিজেই অপরাধের ভিত্তি অস্বীকার করেননি, সেখানে ট্রাইব্যুনাল তিনটি চার্জ প্রমাণ করে বাকি পাঁচটি চার্জ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন। বিশেষ করে কুষ্টিয়ায় তার নির্দেশনায় যে ছয়জন ছাত্র-জনতা শহীদ হলেন, সেই সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির দায় ট্রাইব্যুনাল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি।’
সাজার মেয়াদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১৪-দলীয় জোটের বৈঠকে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত নেয়া, জামায়াত-বিএনপিকে নির্মূল করার চক্রান্ত এবং শেখ হাসিনার সাথে ফোনে ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার পরামর্শ- এগুলো অত্যন্ত গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ। ট্রাইব্যুনাল প্রতিটিতে ১০ বছর করে সাজা দিলেও তা কনকারেন্ট (যুগপৎ) বা একত্রে চালানোর আদেশ দিয়েছেন। আমরা মনে করি, ট্রাইব্যুনাল এখানে আইনের মর্মার্থ সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই সাজা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। শেখ হাসিনার যে অপরাধের দায়, ইনুরও ঠিক একই দায়। আমরা এই রায়ে মোটেই সন্তুষ্ট নই এবং রায়ের কপি পাওয়ার সাথে সাথেই সাজা বৃদ্ধি এবং খালাস পাওয়া চার্জগুলোর সাজার দাবিতে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করব।
আসামিপক্ষের প্রতিক্রিয়া
অন্য দিকে, রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাসানুল হক ইনুর স্ত্রী ও জাসদ নেত্রী আফরোজা হক রিনা নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘এটি একটি নিকৃষ্টতম অবিচার ছাড়া আর কিছুই নয়। ১৯৭১ সনের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যে বিশেষ আদালত তৈরি করা হয়েছিল, ড. ইউনূসের সরকারের সময় সেখানে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিচার শুরু করে যার শেষটা হলো এই সাজা দিয়ে! আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি এটি একটি সাজানো এবং প্রহসনের মামলা। আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করছি। দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করে খুব দ্রুতই আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ (আইসিটি বিডি কেইস নম্বর-০৩/২০২৫) গত ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। ২ নভেম্বর চার্জ গঠনের পর ৩০ নভেম্বর সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছিল। ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণে রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জন এবং আসামিপক্ষে দু’জন সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয় এবং আজ ৩০ জুনের কার্যতালিকায় মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ষষ্ঠ রায়।



