ক্রীড়া প্রতিবেদক
এবারের নারী ফুটবল লিগে বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসারের মতো নতুন দল ছিল রাজশাহী স্টারস। অন্য দুই দল সেরা তিনে থাকতে না পারলেও রাজশাহী স্টারস হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। তা অপরাজিত থেকেই। পরশু ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মিতে ৩-০ গোলে হারিয়ে তাদের এই অভিষেকেই শিরোপার স্বাদ পাওয়া। বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হলেই দুই আন্তর্জাতিক আসরে খেলার সুযোগ। এক সাফ নারী ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ। অপরটি এএফরি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। গত বছরই প্রথম অনুষ্ঠিত হয় সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। এতে আগের বারের লিগ চ্যাম্পিয়ন দল নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি অংশ নেয়। তবে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ক্লাব খেলার যোগ্যতা অর্জন করেনি। কারণ পূরণ করা হয়নি এএফসির শর্ত। এর একটি শর্ত ছিল লিগে কমপক্ষে ১০টি দল থাকতে হবে। গত বছর ৯টি দলের অংশগ্রহণে লিগ হয়েছিল। এবার অবশ্য ১১ দল খেলেছে। এতে অন্যতম শর্ত পূরণ হয়েছে। এখন বাকি কাজগুলো ঠিকমতো সম্পন্ন হলেই নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা হবে রাজশাহী স্টারসের। অবশ্য সাফ কর্তৃপক্ষ এখন নিশ্চিত নয় এবার তারা নারী সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ করতে পারবে কি না। জানান সাফের মিডিয়া ম্যানেজার আয়ুশ খাড়কা।
কোচ পিটার বাটলারের বাড়াবাড়ির কারণেই গত বছরের ডিসেম্বরে সাফ নারী ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করতে পারেনি নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি। নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির হয়ে সাবিনাদের সাথে মনিকা, মারিয়াদের খেলার অনুমতি দেননি কোচ বাটলার। এরপর সাবিনারাও মানিকাদের ছাড়া খেলতে রাজি হননি। এতে শেষ পর্যন্ত দুর্বল দল নিয়ে বাজে রেজাল্ট করে আসে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি। অথচ টুর্নামেন্টে দেখা গেল নাসরিন যদি শক্তিশালী দল নিয়ে যেতে পারত তাহলে চ্যাম্পিয়ন হয়েই আসত।
যদি এ বছর সাফ নারী ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ হয় তাহলে রাজশাহী স্টারসই খেলবে। সাথে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ক্লাব প্রেসিডেন্ট পরশু পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ম্যাচেও খেলবে তার দল। দলের ম্যানেজার মুশফিকুর রহমানও জানান, আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলা এবং সেখানেও ভালো করা। খেলবে আর চলে আসব এই নীতিতে নেই। ওই সব আসরে খেললে সাফল্য পাওয়ার জন্যই খেলব। প্রয়োজন হলে আরো ভালো মানের বিদেশী নিয়ে খেলবে এই দুই টুর্নামেন্টে।
অভিষেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বদৌলতে রাজশাহী স্টারসের ফুটবলাররা কত করে বোনাস পান সেটিই এখন দেখার বিষয়। মুশফিক জানান, প্রত্যেক সদস্যকে ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার পরিকল্পনা আছে। আমার এর আগে প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের জন্য পুরো দলের জন্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করে বোনাস দিয়েছি। এতে দলের প্রত্যেক সদস্যই সমান টাকা পেয়েছিল। বল বয় থেকে শুরু করে হেড কোচ পর্যন্ত সবাই সমান টাকা পায়। এরপর ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে জয়ের পর পুরো দলের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়।
দলে দেশী ভালো মানের স্ট্রাইকার ছিল না। কিন্তু আলপি আক্তার ও সৌরভী আকন্দ প্রীতি মিলে দলকে টেনেছেন। এ ছাড়া স্বপ্না রানী, ঋতুপর্ণা চাকমা , তৃষ্ণা রানী ও শাহেদা আক্তার রিপারা দলের প্রয়োজনে জ¦লে উঠেছেন। ছিলেন মুনকি আক্তারও। আর পোস্টের নিচে রুপনা চাকমা। তাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ফরাশগঞ্জকে টপকে শিরোপা জেতা সম্ভব হয়েছে নবাগত এই দলের পক্ষে। দলকে ফার্স হোটেলে রাখা হয়েছিল। পারিশ্রমিকও ভালো পেয়েছিলেন তারা। সব কিছুর পূর্ণতা এসেছে দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায়।



