বাগেরহাট প্রতিনিধি
বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দেরি হচ্ছে কেন, সেটি সরকারেরই ব্যাখ্যা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় বাগেরহাট সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলার বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দেরি হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, প্রশ্নটি সরকারের কোনো মন্ত্রীকে করুন। আপনার মতো আমাদেরও দাবি, সরকার নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনুক।
তিনি বলেন, সরকার কেন নিজ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনছে না; বরং তিনি কেন বলছেন আমি ঢুকে যাবো; এটা সরকার ভালো বলতে পারবে।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে রায় হয়েছে তার বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ আছে, সেগুলো তাকে ফেস (মুখোমুখি) করতে দেয়া উচিত। তবে আমরা এ কথা সবসময় বলে থাকি, বিচার হবে নায্যতার ভিত্তিতে, অনায্য কোনো বিচার চাই না।
সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। দেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলবেন। আমিও কালো হলে আমাকে ছাড় দিয়ে কথা বলবেন না। জাতির এই চতুর্থ স্তম্ভ যদি কার্যকরভাবে কাজ করে, তাহলে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানও কার্যকর থাকবে। কিন্তু এই জায়গাটি দুর্বল হলে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যাবে না। সরকার ভুল করে না শুদ্ধ করে তা কে বলবে, বলবেন তো আপনারা। সেই জায়গাটা যখন অক্ষুণœ থাকবে, বলিষ্ঠ হবে দেশ তখন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
এ সময়ে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণ পাঁচ বছর সরকারের কার্যক্রম বিবেচনায় নেবে। বিরোধী দলেরও পাঁচ বছরের ভূমিকা বিবেচনায় নেবে। বর্তমান সরকার কেমন করছে, তারা ব্যর্থ না সার্থক তা জনগণ এখনই বলছে; আমরা বলব না। এই অল্প সময়ের মধ্যে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা চাইত তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হতো বলে বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, রাজনীতি হচ্ছে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা। এখানে কোনো মাস্তান বা সন্ত্রাসী মানসিকতার মানুষের স্থান নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীদের আমাদের দলে যুক্ত করতে হলে কেন্দ্রের অনুমতি লাগবে। তাদের রাজনীতি করার সময় এখনো আসেনি। তারা অসংখ্য মায়ের কোল খালি করেছে। বিনিময়ে তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশও করেনি। পক্ষান্তরে তারা এখনো হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা, গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। সভায় বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মওলানা রেজাউল করিম, জামায়াত ইসলামীর বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত ও বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমসহ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের আমির বিকেলে বাগেরহাট আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা জামায়াতের রুকন (সদস্য) সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো: ইজ্জত উল্লাহ এমপি, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান এমপি, অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম এমপি, মনজুরুল হক রাহাত এমপি, বাগেরহাট জেলা সেক্রেটারি শেখ ইউনুস আলী প্রমুখ।



