এএফপি
দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে ইরাকে এক ব্যাপক অভিযান চালিয়ে এক সংসদ সদস্যসহ ৪৭ জন সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত রোববার বাগদাদ থেকে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সম্প্রতি ইরাকের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দায়িত্ব গ্রহণের পর দু’টি মূল অঙ্গীকার করেছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। আগামী মাসে তার পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফরের আগেই এই জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হলো। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন সফরকালে তিনি সে দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবেন।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানায়, ‘দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে’ ৪৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা এবং তেল মন্ত্রণালয়ের অন্তত একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। রোববার ভোরে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানী বাগদাদের অতি সুরক্ষিত গ্রিন জোন এবং শহরের আরেকটি এলাকায় একযোগে এই অভিযান চালায়। উল্লেখ্য, গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর এবং উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বাসস্থান অবস্থিত। স্থানীয় টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ভিডিওতে ভারী সাঁজোয়া যানসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে গ্রিন জোনে এবং বিভিন্ন কম্পাউন্ড ও বাড়ির ভেতরে অভিযান চালাতে দেখা গেছে। বাগদাদে কর্মরত একজন কূটনীতিক এএফপিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাইদির এই দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ মূলত তাঁর ‘ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতির অংশ’ এবং নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি স্পষ্ট বার্তা। এই অভিযানটি এমন এক সময়ে পরিচালিত হলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বাগদাদ সফরে রয়েছেন এবং নতুন ইরাকি সরকারের সাথে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আশ্বাস দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরেই ইরাক মূলত প্রতিবেশী ইরান এবং দূরবর্তী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, দৃশ্যত এটি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হলেও এটি আসলে ‘আরো বৃহৎ একটি অভিযানের’ অংশ, যার মূল লক্ষ্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন, ডলারের অননুমোদিত লেনদেন এবং ইরানি তেল পাচার দমন করা।



