ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের হুঁশিয়ারি তেহরানের

নয়া দিগন্ত ডেস্ক
Printed Edition

নেতানিয়াহু নিহত হওয়ার খবর

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সঙ্ঘাতের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশের সাথে সাথে হামলা-পাল্টাহামলা, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা একসাথে বাড়ছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস হয়নি; বরং আরো বেশিসংখ্যক ও অধিক শক্তিশালী ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার হতে পারে যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র হামলার দিন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন সঙ্ঘাতের আওতায় চলে এসেছে। ইরান একদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে লেবানন, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়ছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা : ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা আরো বেশিসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যেগুলোর অনেকগুলোর ওয়ারহেডের ওজন এক টনেরও বেশি। তেহরান এই যুদ্ধকে ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে দেখছে, তাই প্রয়োজন হলে আরো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা কামাল খারাজি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আপাতত নেই; যুদ্ধের অবসান কেবল অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভব। তিনি সতর্ক করেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালানো যেতে পারে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চাপের মধ্যে আনা যায়।

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আক্রমণের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটিসহ আবাসিক ভবন ও বিমানবন্দরও প্রভাবিত হচ্ছে।

তেহরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ : যুদ্ধের সর্বশেষ পর্যায়ে তেহরান শহর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়েছে। রাজধানীর রিসালাত স্কয়ারের আশপাশে রাতভর ব্যাপক বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

এই হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬০ জন নিহত এবং চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে শহরের জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে তেহরান শহরে রাতভর তীব্র বোমাবর্ষণ হয়েছে। রিসালাত স্কয়ারের আশপাশে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তেহরানে ৪৬০ জন নিহত এবং চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পুরো ইরানে হতাহতের সংখ্যা এক হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।

ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সঙ্ঘাত তীব্র : ইরান যুদ্ধের প্রভাব লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫০০-তে পৌঁছেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে। একই সাথে লেবাননের রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চল দাহিয়েহ এলাকায় বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাইদা শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ইসরাইল হামলার হুমকি দেয়ার পর বাসিন্দারা কয়েক ঘণ্টা ধরে রাস্তায় অপেক্ষা করছেন। অনেকেই এটিকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলার ঘোষণা : ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, মঙ্গলবার ইরানের ওপর হামলার দিক থেকে ‘সবচেয়ে তীব্র দিন’ হতে পারে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌসক্ষমতা ধ্বংসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

মার্কিন বিমানবাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন জানান, যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনে ইরানের ৫০টিরও বেশি নৌযান ধ্বংস বা ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রে মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেনে শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে ফোনালাপ করেছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রথমবারের মতো পুতিনকে ফোন করেছিলেন। তারা ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার সম্ভাবনা, ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতি ও বিশ্ব তেলের বাজার নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাগদাদ চায় না, ইরানি বিদ্রোহী কুর্দি গোষ্ঠী তেহরানবিরোধী অভিযান শুরু করুক। সীমান্তে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে বাগদাদ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানে প্রবেশ কঠিন হবে।

ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সঙ্ঘাত : লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলি হামলায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০০। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। দাহিয়েহ এলাকায় বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সাইদা শহরের আবাসিক এলাকায় ইসরাইলি হুমকির পর বাসিন্দারা রাস্তায় অপেক্ষা করছেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, লেবাননের ইয়োহমোর শহরে ইসরাইল সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বিষয়টি অজানা বলে জানিয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা : ইরান বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও হামলা চালাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫টি ড্রোন শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৬টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

বিশ্বজ্বালানি বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান এই পথে যাওয়া জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা বিশ্বজ্বালানি ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

মিডিয়া যুদ্ধ : নেতানিয়াহু নিহত হওয়ার খবর

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মধ্যে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজব সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা তৈরি করেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হতে পারেন, যা হিব্রু সূত্রে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইসরাইলের জেরুসালেম পোস্ট সংবাদমাধ্যম জানায়, এটি কেবল গুজব এবং বিষয়টি নিশ্চিত নয়। কিন্তু তাসনিম জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশের তিন দিন, সর্বশেষ ছবি চার দিন আগে, যা জল্পনা উসকে দিচ্ছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা জোরদার, ট্রাম্পের প্রতিনিধি সফর বাতিল এবং ফরাসি প্রেসিডেন্টের কথোপকথনের নির্দিষ্ট তারিখ না জানানোও জল্পনা তীব্র করছে।

সামাজিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষী পোস্টের সংখ্যা বেড়েছে। ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্স প্ল্যাটফর্মে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২৫ হাজারের বেশি ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য পোস্ট করা হয়েছে, পুনঃপোস্টসহ মোট উল্লেখ দুই লাখ ৭৯ হাজার ছাড়িয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার যৌথ পরিকল্পনা নেই।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সঙ্ঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক সঙ্কটে রূপ নিয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গভীর হবে। নেতানিয়াহুর গুজব, হরমুজ প্রণালী সঙ্কট, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি সবই এখন বিশ্বরাজনীতির মূল আলোচ্য বিষয়।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা : বিশ্বজ্বালানি বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান এই পথ দিয়ে যাওয়া জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। এর ফলে ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল অনেকটাই কমে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, যাতে তেল পরিবহন বন্ধ না হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরো বাড়বে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যের দামেও।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সরবরাহ অনিশ্চয়তা এবং সমুদ্রপথে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ কমে গেলে এবং চাহিদা বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে।

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে বিতর্ক ও ইউরোপের উদ্বেগ

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বিদেশী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ তার সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

অনেকেই অভিযোগ করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় এই যুদ্ধে জড়িয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে যুদ্ধ শেষ করার কোনো যৌথ পরিকল্পনা নেই বলে মনে হচ্ছে। তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে তত বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

কূটনৈতিক উদ্বেগ

যুদ্ধের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। কাতার বলেছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সঙ্ঘাত সীমিত রাখা সম্ভব। এদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নেদারল্যান্ডস তাদের ইরানের দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সঙ্ঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক সঙ্কটে রূপ নিচ্ছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই এর প্রভাব বিশ্বরাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গভীর হয়ে উঠবে।

ইরান যুদ্ধ : ১১তম দিনের লাইভ টাইমলাইন (১০ মার্চ ২০২৬)

সকাল ৬:০০- ৯:০০

তেহরান ও অন্যান্য শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ অব্যাহত।পূর্ব তেহরানে আবাসিক ভবনে আক্রমণে অন্তত ৪০ জন নিহত। তেল ও গ্যাস সংরক্ষণাগারে আক্রমণে রাজধানীতে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ইরানির সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘলিফাফ ঘোষণা করেন : “আবাসিক এলাকায় হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া হবে।”

সকাল ৯:০০- ১২:০০

তেহরানে মুজতবা খামেনিকে সমর্থন জানাতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে।

ইরানি ডেপুটি ফোরেন মিনিস্টার কাজেম ঘরিবাবাদি জানিয়েছেন, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্সসহ কিছু দেশ ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছে।

পশ্চিম ইরানের আরাক শহরে হাউজিং আক্রমণে পাঁচজন নিহত।

দুপুর ১২:০০- ১৪:০০

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলা চলছে :

কুয়েতে ছয়টি ড্রোন আটক।

বাহরাইনে আবাসিক ভবনে আক্রমণে ২৯ বছর বয়সী নারী নিহত, ৮ জন আহত। আমিরাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলার ব্যবস্থা সচল। সৌদি আরবে ড্রোন আঘাতে “সীমিত ক্ষতি, কোনো হতাহত নেই।”

দুপুর ১৪:০০- ১৬:০০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন:

৫,০০০+ লক্ষ্যবস্তু আঘাত করেছে।

ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়েছে।

ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

যুদ্ধ “শিগগিরই” শেষ হবে, তবে চলতি সপ্তাহে নয়।

সাতজন মার্কিন সৈন্য নিহতের খবর নিশ্চিত।

বিকেল ১৬:০০-১৮:০০

ইসরাইলি সেনারা হাইফা তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানি ড্রোন আক্রমণ প্রতিরোধ করেছে।

তেল আবিবের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় আঘাতে একজন নিহত, মোট নিহত ১১।

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৪৮৬ জন নিহত, প্রায় সাত লাখ মানুষ স্থানান্তরিত।

সন্ধ্যা ১৮:০০- ২০:০০

ইরাক সীমান্তে আইআরজিসির ড্রোন আক্রমণ; হারির বিমানঘাঁটি লক্ষ্য।

দক্ষিণ লেবাননে বাসিন্দাদের ছাড়ার নির্দেশ।

তুরস্কে ন্যাটো বিমান প্রতিরক্ষা ইরান থেকে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।

রাত ২০:০০-২২:০০

তেল ও গ্যাস বাজারে উল্লম্ফন :

দাম সর্বাধিক ডলার ১২০/বারেল, ট্রাম্প হুমকি দিয়ে কমিয়ে আনল ডলার ৯০-এ।

জি-৭ তেল মজুদ মুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার আন্তর্জাতিক অভিযান ঘোষণা।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউরোপীয় ক্রেতাদের সাথে তেলের সরবরাহ পুনরায় চালানোর প্রস্তুতি জানালেন।

রাত ২২:০০-২৪:০০

ইরানি বিদেশমন্ত্রক : যুক্তরাষ্ট্র দেশ বিভাজন ও তেল দখল করতে চাইছে।

তেহরান ও রাজধানীর অন্যান্য শহরে মুজতবা খামেনি সমর্থন র‌্যালি অব্যাহত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজ্বালানি বাজারে চাপ বৃদ্ধি।

সংক্ষেপ :

ইরান, তেহরান ও পশ্চিমাঞ্চলে নিহত ১,২৫৫+; আহত ১০,০০০। লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৪৮৬+ নিহত, সাত লাখ স্থানান্তরিত।

উপসাগরীয় দেশগুলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলা করছে।

তেল ও গ্যাসের দাম উল্লম্ফিত, জি-৭ এর হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি।