মুহাম্মদ ইলিয়াছ পাটওয়ারী চাঁদপুর
আটটি উপজেলা নিয়ে চাঁদপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দল। উৎসবমুখর পরিবেশে বিএনপি প্রার্থী মনোনয়নবঞ্চিতদের কারণে অস্বস্তিতে রয়েছে। দিন যত যাচ্ছে তাদের মধ্যেকার কোন্দলের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হচ্ছে। চারটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল ও কালো পতাকা মিছিল করে আসছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। অপর দিকে জনগণের ও দলীয় আস্থা নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে চায় জামায়াত প্রার্থীরা। ইতোমধ্যেই তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। এদিকে ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি ও গণ অধিকারসহ অন্যান্য দলের প্রতিটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা হয়নি।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন : আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ২০১৮ সালে দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে মনোনীত প্রার্থী ‘গত ১৫ থেকে ১৬ বছর এলাকায় ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন। এহসানুল হক মিলন বলেন, কে কী বলল, এটা দেখা বা শোনার সময় নেই। অপর দিকে আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশ্রাফি। এবারই প্রথম তিনি নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, এখানকার মানুষ পরিবর্তন চান। তার প্রচারণায় ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্যণীয়। নেতাকর্মীরাও তার জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী। ইসলামী আন্দোলনের ওমর ফারুক কাসেমী, এনসিপির ডা: আরিফুল ইসলাম, গণ অধিকারের এনায়েত হাসিব নির্বাচন করতে চান।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসন : এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জালাল উদ্দিন। জামায়াতের প্রার্থী ডা: আব্দুল মোবিন। বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে তানভির হুদাকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন। বিএনপির প্রার্থী বলেন, দু-একজন ছাড়া সবাই এক হয়ে ধানের শীষের জন্য কাজ করছেন। জামায়াতের প্রার্থী ডা: আবদুল মোবিন বলেন, মতলববাসী সচেতন, তারা পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে এলাকাবাসী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যারিস্টার ওয়াদুর রহমান টিপু, অধ্যাপক ডা: শামীম, ডা: মাহবুবুর রহমান শামীম, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ শুক্কুর, ড. আনিছুল আউয়াল। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মানসুর আহমেদ, এনসিপির ইসরাত জাহান বিন্দু, গণ অধিকারের ইসমাইল হোসেন বিএম গোলাপ হোসেন নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন।
চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসন : আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমদ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরি ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা প্রবাসী আজম খান। এতে তৃণমূলে বিভক্তি দেখা গেছে। বিএনপির প্রার্থী বলেন, আমার দল ক্ষমতায় এলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। জামায়াতের মনোনীত একক প্রার্থী শাহজাহান মিয়া। তিনিও নিয়মিত এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমার দল জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থাকবে না। মানুষের ভাগ্যেরও পরিবর্তন ঘটবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ জয়নাল আবেদীন, গণফোরামের জেলা সভাপতি সেলিম আকবর, গণ অধিকার পরিষদের জাকির হোসেন, এনসিপির জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মাহবুব আলম, খেলাফত মজলিসের তোফায়েল আহমেদ প্রচার চালাচ্ছেন।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন : এই আসনে বিএনপি প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদ। তার প্রার্থী ঘোষণার পর টানা তিন দিন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ হান্নানের সমর্থকরা। এখনো তারা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। হারুনুর রশিদ বলেন, যারা বিরোধিতা করছে, তারা স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশ নেবে। এতে ধানের শীষের কিছুই হবে না।’ এ আসনে জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করেছে মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজীকে। তিনি বলেন, যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের ক্ষমতায় বসান আমরা এ দেশে ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করব। বেকার যুবকের বেকারত্ব সমস্যা দূর করব। প্রতিটি মানুষ যেন স্বাধীনভাবে চলতে পারে, ন্যায় বিচার পায়, সে ব্যাপারে কাজ করবে। নেতাকর্মীরা তার জয়ের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মকবুল হোসাইন, এনসিপির উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী দেয়ান শরীফুল ইসলাম, গণ অধিকারের আরিফ তালুকদার মাহমুদুল হাসান, দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি) আসন : এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মমিনুল হক। বিএনপির অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- ব্যারিস্টার কামাল উদ্দিন, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন। মমিনুল হক বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার আগে এখানে কয়েকজন প্রচার চালালেও প্রার্থী ঘোষণার পর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল হোসাইন। তিনি বলেন, সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহাবুব আলম, গণ অধিকারের ইউনুস মিয়া দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করে প্রচার চালাচ্ছেন। নির্বাচনী কৌশল হিসেবে আসনগুলোতে জোটবদ্ধ প্রচারণায় নেমেছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা জানান, সুষ্ঠু ভোট হলে তারা নির্বাচিত হবেন।



