হেমন্ত
মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী
মাঠজুড়ে ধান হলুদ বরণ
শিশির দিয়ে ভেজায় চরণ
নীলছামিনার স্বচ্ছ গগণ
শিউলি সুরভি ভোরের লগণ
লাগছে জানি কেমন তো!
এখন ঋতু হেমন্ত,
বর্ষা বাদল পালায় গেছে
কাশের ফুলের শরৎ শেষে
চো-চো করে কমছে পানি
প্রকৃতি ঠিক টানছে ঘানি
লাগছে জানি কেমন তো!
এখন ঋতু হেমন্ত।।
ধানে ধারণ মাঠের শোভা
তৃপ্তি দায়ক মনোলোভা
ছুটছে দূরে এ-মন-তো,
মেঠোপথের বাঁকে বাঁকে
সবজি চাষি স্বপ্ন আঁকে
এখন ঋতু হেমন্ত।
হেমন্তের কালে
উম্মুল খায়ের
সুরের তালে হিমের কোলে
মন মাতানো বাতাস দোলে
রঙ মাখানো শিউলিতলে
কুয়াশা ঝরে কোন খেয়ালে?
সকাল বেলা ঝলমলিয়ে
রোদের ফুল উঠল ফুটে
হেমন্তের মাঠের দিকে
পাখপাখালি যাচ্ছে ছুটে।
আকাশজুড়ে আলোর খেলা
মাঠের বুকে ধানের মেলা
নদীর কূলে গানের ভেলা
নবান্নের মধুর বেলা !
প্রিয় আমার
এইচ এস সরোয়ারদী
প্রিয় আমার পাঠশালা আর
সবুজ সাথী বই
প্রিয় আমার গোলাপ জবা
প্রিয় ঢেপের খই।
প্রিয় আমার ময়না টিয়ে
প্রিয় ফড়িংগুলো
প্রিয় আমার ভাপাপুলি
কাদামাটি ধুলো।
টিকটিকি ও আমি
সুমন রায়হান
টিকটিকিটা দেয়াল থেকে
বলল জোরে টিকটিক
সাথে সাথেই আমি বলি
আমার কথা ঠিক ঠিক।
মা হেসে কন টিকটিকিরা
একইভাবে কথা কয়
যে যাই বলুক- কয় টিকটিক
কারো কথার সাড়া নয়।
আমি বলি আমার কথা
সত্যি এবং ঠিকঠিকই
তোমরা শুধু বোঝ না মা
বোঝে ঘরের টিকটিকি।
না মানাদের দল
গোলাম রব্বানী টুপুল
আকাশ দিলো রঙিন মেঘের ছায়া
স্বপ্নডাঙায় নতুন দীঘির কায়া
আমরা উড়াই কাগজি সব ঘুড়ি
এই মাটিতে আটকে রাখি মায়া।
আমরা আছি হিজল ফুলের দেশে
বানের জলে পাপড়িরা যায় ভেসে
আমরা কেবল কুড়াই জলের শালুক
জীবন চালাই আনন্দেতে হেসে।
আমরা হাঁটি গাঁয়ের মেঠোপথে
ঘাসের গানে বাতাস বইছে সুরে
ডাহুক পাখি গাইছে নতুন গান
প্রজাপতি ঘুমিয়ে আছে দূরে।
আমরা কেবল কচি-কাঁচার দল
বায়না ধরে খাইনা ডাবের জল
ডাঙ্গুলি আর গোল্লøাছুটে মাতি
আমরা কেবল না মানাদের দল।
ইসমাঈল ভাই
গোলাম নবী পান্না
ধর্মের প্রতি যার
অনুগত থাকা
লেখনীতে তার সেই
স্বপ্নটা আঁকা।
সাহিত্য সাধনায়
তাই তাকে দেখি
এমন এ ভাবনায়
চলে লেখালেখি।
দেখাদেখি তাও মেলে
ধর্মের বই
নিমগ্ন দেখে তাকে
অবাক তো হই।
ইসমাঈল ভাই তিনি
কাব্যের মাঝে
নিজেকেই মেলে দেন
নানা কারুকাজে।
কামিনীর ঘ্রাণ
শাকেরা বেগম শিমু
শিউলি কাশের বহর শেষে
হেমন্ত যে এলো
নবান্ন আর কামিনী ফুল
হৃদয় ছুঁয়ে গেল।
মিষ্টি সুবাস দেয় ছড়িয়ে
উদাও ভোরের ঘুম
দখিন হাওয়া শরীর কাঁপায়
সূর্যটা দেয় উম।
কামিনীরা মধুর ঘ্রাণে
হৃদয় করে আকুল
নয়া চালের পিঠা খেতে
ছেলে বুড়ো ব্যাকুল।
হেমন্তের সুখ
মজনু মিয়া
যদ্দুর চোখ যায় দেখি চেয়ে
সোনালি ধান ক্ষেতে
ফড়িং করে উড়াউড়ি
আনন্দে রয় মেতে।
শিশু-কিশোর ক্ষেতের আইলে
উড়ায় রঙিন ঘুড়ি
পাকা ধানের দোলাচলে
মন খুশিতে উড়ি।
গান গায় ধান কাটে কৃষক
ধানের ছড়াছড়ি
শিশু-কিশোর ধানের স্তূপে
করে গড়াগড়ি।
হেমন্ত এলো
সাইফুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম
ভোরের রবি উঠলো পুবে
শিশির ঝরে ঘাসে
কিরণমালা শিশির-কণায়
মিকিমিকি হাসে।
দারুণ রূপে মুগ্ধ করা
হেমন্ত আজ এলো
শরৎ ঋতু এ দেশ থেকে
বিদায় নিয়ে গেল।
নতুন ঋতুর আগমনে
লাগছে খুশি মনে
আসছে পরেই শীতের ঋতু
শীত নিয়ে কনকনে।



