নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের হাওর এলাকায় উজান থেকে নেমে আসা পানি ও অতিবৃষ্টিতে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার ছয় নদীতে পানি বিপদ সীমার ৩ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় গত ২৭ এপ্রিল হতে ভুগাই-কংস, সুমেশ্বরী, মগরা ও সুতাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফলে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ জেলার হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও অন্যান্য দেশের আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী গত সাত দিনে এসব অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ৭ মে পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অঞ্চল ও এর-সংলগ্ন উজানে (প্রতিবেশী দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে) স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী ওই অঞ্চলগুলোতে স্থানভেদে ১৫০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীসমূহ যেমন সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই, ভুগাই-কংস ও অন্যান্য উপনদীসমূহের পানি বেড়ে নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চলে বন্যার অবনতি ঘটতে পারে এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তবে চলতি সপ্তাহের শেষভাগে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে যেতে পারে, এমন পূর্বাভাসও রয়েছে। এমন হলে উল্লেখিত এলাকার বন্যার কিছুটা উন্নতি হতে পারে এবং নদীসমূহে পানি বিপদ সীমার নিচেও নেমে যেতে পারে।
তবে আজকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সারাদিনই সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর পয়েন্টে, নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জাইল পয়েন্টে, সুমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদী সুতাং রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব এলাকা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে ভারী এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় মাঝারি এবং ভারী বর্ষণ হতে পারে। এই অঞ্চলে আগামী তিন দিন একই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
সে কারণে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে আগামী তিন দিন পানি বাড়তে পারে। এ ছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি কোথাও কোথাও বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে বন্যা হতে পারে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওরের নিম্নাঞ্চলে। আর হবিগঞ্জ জেলার কালনি ও সুতাং নদীর পানিও আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের হাওর অঞ্চলেও বন্যা হতে পারে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি ও মনু নদীতেও পানি বাড়তে পারে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে এবং হাওর অঞ্চলে বন্যা হতে পারে।



