গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও থামেনি ইসরাইলি আগ্রাসন, নিহত আরো ১০০০ ফিলিস্তিনি

Printed Edition
দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে প্রিয়জনদের হারিয়ে ফিলিস্তিনিদের শোক : ইন্টারনেট
দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে প্রিয়জনদের হারিয়ে ফিলিস্তিনিদের শোক : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় নতুন করে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে অবরুদ্ধ এই জনপদের মানবিক সঙ্কট দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর বিভিন্ন হামলায় এক হাজার পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

এ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ‘মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টানিয়ানস’-এর গাজাবিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত। তিনি বলেন, গাজা আরও একটি নির্মম ও দুঃখজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে চরম সঙ্কটময় সময় ফুরিয়ে এসেছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা এখনো প্রতিদিন তাদের প্রিয়জনদের লাশ দাফন করে চলছেন। বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের সঙ্ঘাত সাময়িকভাবে থামালেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের েেত্র দুই প কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। চুক্তির পরবর্তী শর্ত অনুযায়ী গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি আলোচনাধীন থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এরই মাঝে গাজায় নিজেদের সামরিক তৎপরতা বজায় রেখেছে ইসরাইল এবং বর্তমানে উপত্যকাটির প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ মাসের শুরুর দিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আল-জাজিরাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই অস্ত্র ত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। অন্যান্য ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই কেবল এই অস্ত্রভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। অন্য দিকে যুদ্ধবিরতির সুযোগে গাজার ভেঙে পড়া চিকিৎসাব্যবস্থা পুনর্গঠনের যে আশা দেখা গিয়েছিল, তাও থমকে আছে। জাতিসঙ্ঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয়কারী সংস্থার (ওসিএইচএ) হিসাব অনুযায়ী, গাজা উপত্যকার ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২০টি আংশিকভাবে সেবা দিতে পারছে। সম্পূর্ণ সচল রয়েছে এমন একটি হাসপাতালও এখন সেখানে নেই।

গাজার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর ইসরাইলের সর্বাত্মক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে গাজার বেশির ভাগ এলাকা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৯ লাখ মানুষ।