ভিজিল্যান্স, অবজারভেশন ও মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা বিধিমালা অনুসরণ, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচন মনিটরিং টিম ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী সেল গঠন এবং নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
Printed Edition

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা বিধিমালা অনুসরণ, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচন মনিটরিং টিম ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী সেল গঠন এবং নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচনী কমকর্তা ও সব জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে বিভিন্ন কমিটি গঠন ও তাদের কার্যপরিধি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইন-বিধিমালা ও প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী উক্ত নির্দেশনার আলোকে গঠিত কমিটিসমূহ দায়িত্ব পালন করবে।

নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ণ রাখা : নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা সবার নিকট সমুজ্জ্বল ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বিশেষ কোনো মহলের কোনো প্রকার প্রভাব বা হস্তক্ষেপে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা যাতে ক্ষুণ্ণ না হয় তা আইন, বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার আলোকে নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের ন্যায় একটি সংবেদনশীল, স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কোনো কাজ করবেন না, যার দ্বারা তাদেরকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় জনগণের নিকট হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কাজে আইন ও বিধির যথার্থ প্রয়োগ ও অনুসরণ করতে হবে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে এলাকার জনগণের যৌথসভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবাইকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া ভোটদানের জন্য ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বচ্ছন্দে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন সেজন্য নিশ্চয়তামূলক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী ভ্রাম্যমাণ ইউনিটসমূহের নিবিড় টহলদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ঝুঁঁকিপূর্ণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। যেকোনো প্রকার অশুভ কার্যকলাপ প্রতিরোধের উদ্দেশে সদা সতর্ক থাকবার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিতে হবে। ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ভোটকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে নির্বাচনের আগে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠন : নির্বাচনে নিরপেক্ষতা যাতে জনগণের নিকট দৃশ্যমান হয় তা নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠন করতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও বেসরকারি পর্যায়ে দলনিরপেক্ষ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ টিমে থাকবেন। একইভাবে উপজেলা পর্যায়ে ও মেট্রোপলিটন এলাকায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে হবে। ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকক্ষের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাসহ সব বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রণয়ন করে চাঁদাবাজ, মাস্তান ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে মোতায়েনসহ চিহ্নিত গোলযোগপূর্ণ ভোটকেন্দ্রসমূহে বেশি সংখ্যায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করতে হবে।

অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের সমর্থকবা যাতে নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা মেনে চলেন, কোনো তিক্ত, উস্কানিমূলক ও ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে এমন কার্যকলাপ বা বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকেন, কিংবা অর্থ, পেশীশক্তি অথবা স্থানীয় ক্ষমতা দ্বারা কেউ নির্বাচনকে প্রভাবিত না করতে পারেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা হয় তার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতা চাইতে হবে এবং প্রয়োজনবোধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আচরণ বিধিমালা অবহিতকরণ : ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সদস্যসহ সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে এবং তাদের নির্বাচনি এজেন্টকে নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিধান এবং বিধান ভঙ্গের দায়ে প্রদেয় শাস্তি; বিশেষ করে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার বিষয় জানানো নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচন মনিটরিং টিম গঠন : তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচন মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে। রিটার্নিং অফিসার কমিটির সভাপতি থাকবেন। সদস্য হবেন, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিনিধি (প্রত্যেক প্রার্থীর ১ জন করে) এবং রিটার্নিং অফিসার মনোনীত কর্মকর্তা সদস্যসচিব হবেন। কমিটি গঠনের পর জরুরি ভিত্তিতে কমিটির সদস্যদের (মোবাইল নম্বরসহ) তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। কমিটির কাজ, আরপিও, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-সহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় যথাযথ ও সঠিকমতো পালন হচ্ছে কি না তা তদারকি করা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন, বিধি, নির্বাচনি আচরণবিধি এবং নির্বাচনের সার্বিক বিষয় প্রতিপালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া ৩ দিন পরপর উল্লিখিত বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।