ইন্ডিপেন্ডেন্ট
মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ডে স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি স্পর্শ করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে চীনের একটি পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেন। দেশের হুবেই প্রদেশের দুংহু ল্যাবরেটরির মাত্র এক কিলোমিটার ট্র্যাকে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চৌম্বক শক্তি কাজে লাগিয়ে রেললাইনের কিছুটা উপর ভেসে চলে ম্যাগলেভ ট্রেন। ফলে লাইনের সাথে কোনো ঘর্ষণ সৃষ্টি হয় না। ট্র্যাকিং কয়েলের চৌম্বক তরঙ্গের সাহায্যে ট্রেনটি প্রবল গতিতে সামনে এগিয়ে যায়। গবেষকরা জানিয়েছেন, কেবল অতি উচ্চগতি অর্জনই নয়, ট্রেনটির স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং সিস্টেমও দারুণভাবে কাজ করেছে। ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি তোলার পর মাত্র ২০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ট্রেনটিকে মসৃণভাবে থামানো সম্ভব হয়েছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে এ নিয়ে পরপর তিনবার নিজেদের রেকর্ড নিজেই ভাঙল ১ দশমিক ১ টন ওজনের এই ট্রেনটি। ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রথম পরীক্ষায় এটি সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার গতি তুলে রেকর্ড গড়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরো কমিয়ে এনে ট্রেনটি যথাক্রমে ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার ও ৭৯৮ কিলোমিটার গতি অর্জনে সক্ষম হয়।
চীনের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্যানুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ, তড়িৎ-চৌম্বকীয় প্রপালশন, লেভিটেশন নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি ব্রেকিং ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলোর সর্বোচ্চ ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। বর্তমানে চীন ও জাপানে চলমান ম্যাগলেভ ট্রেনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। তবে চীনের ‘ফুক্সিং’ বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বাণিজ্যিক ম্যাগলেভ ট্রেন, যার গতি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার। অন্য দিকে চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজির তৈরি অন্য একটি ম্যাগলেভ ট্রেন মাত্র দুই সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬৯৭ কিলোমিটার গতি ছুঁয়ে রেকর্ড করেছে।
বর্তমানে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য এই ট্রেন উপযোগী না হলেও এর কার্যপদ্ধতি ভবিষ্যতে রকেট ও ফাইটার জেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা উন্নত করতে সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। একই সাথে কম বায়ুচাপ বা বায়ুশূন্য টিউবের ভেতর এই প্রযুক্তি ব্যবহারের গবেষণা চলছে। তবে দীর্ঘ লাইনের নিখুঁত অবকাঠামো নির্মাণ, বিশাল খরচ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।


