রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
গ্রামের বুকে গড়ে উঠবে আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সৃষ্টি হবে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান- এই স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের উর্বর কৃষিজমি বিক্রি করেছিলেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের কুমাজপুর এলাকার শতাধিক কৃষক। কিন্তু জমি হস্তান্তরের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশবন্ধু গ্রুপের ঘোষিত শিল্প প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জমিদাতা পরিবারগুলো।
সরেজমিনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কসংলগ্ন সাহেবগঞ্জের কুমাজপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে একসময় বালু ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলেও এরপর আর কোনো কাজ এগোয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় বিশাল এলাকাটি এখন আগাছা ও ঝোপঝাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ২০১৩ সালে দেশবন্ধু গ্রুপ প্রায় ৬৪ বিঘা জমি প্রতি ডিসিমাল ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দরে ক্রয় করে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও জমিদাতাদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
কুমাজপুরের জমিদাতা আবদুস ছালাম ও আবদুল মালেক বলেন, ‘চাকরির আশায় জমি বিক্রি করেছিলাম, যার বর্তমান দাম ৮-১০ লাখ টাকা ডিসিমাল। কারখানাও হলো না, চাকরিও পেলাম না। আমাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।’ একই গ্রামের নেজাব আলী ও সুজাব আলী অভিযোগ করেন, তাদের ৩২ ডিসিমালের মধ্যে ২৩ ডিসিমাল কোম্পানির কাছে বিক্রি করলেও বাকি ৯ ডিসিমাল জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে দেশবন্ধু গ্রুপ। সেখানে গাছ লাগালে রাতের আঁধারে উপড়ে ফেলা হয়। তারা এর সুষ্ঠু বিচার চান।
এ বিষয়ে দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) জাকির হোসেন বলেন, সরকার তাদের সহযোগিতা করছে এবং তারা শিগগিরই কাজ শুরু করবেন। তবে জমি দখলের অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন এবং পরে আর কল রিসিভ করেননি।



