আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ইশতেহারে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে অবহেলিত অথচ আয়না হিসেবে পরিচিত একই সাথে শিল্প ও সেবা খাতে দীর্ঘ মেয়াদে মূলধন সরবরাহের অন্যতম উৎস পুঁজিবাজার নিয়ে উভয় দলই তাদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে।
গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়া দেশের পুঁজিবাজার এ মুহূর্তে চরম সঙ্কটের মধ্য দিয়ে পার করছে। গত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার পুঁজিবাজার সংস্কারে নানা উদ্যোগ নিলেও তা কোনো অর্থবহ ফল এনে দিতে পারেনি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুঁজিবাজার সংস্কার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে বেশ কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে দল দু’টি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) : গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতেহারে পুঁজিবাজার নিয়ে দলটি যেসব ঘোষণা দেয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা। দলটি কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে কমিশনকে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। একই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে নজরদারির আওতায় আনার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি বিএসইসি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডে যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হবে। বাজারে বিদ্যমান সিকিউরিটিজ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে দলটি।
এর পাশাপাশি দলটি তাদের ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংস্কারের জন্য একটি পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন করার অঙ্গীকার করেছে এবং পাশাপািশ বিগত ১৫ বছরে শেয়ারবাজারে সংঘটিত সব অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করবে, যার মাধ্যমে সব অনিয়মের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনবে। এ ছাড়া বাজারের কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে দৃঢ় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বিএনপি। এ ছাড়া পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি দ্রুত ও কার্যকর পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল গঠনের ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী : গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। ইশতেহারে দলটি পুঁজিবাজার নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উল্লেখ না করলেও দেশের পুঁজিবাজারের চলমান মূল সমস্যাগুলো নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা কারসাজি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে দলটি।
এ ছাড়া বিগত সময়ে নানা অনিয়মের কারণে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দলটি। পাশপাশি শেয়ারবাজারকে গতিশীল ও আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়ার কথা ইশতেহারে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।



