গৌরীপুরে সাংবাদিককে মারধর করে পুলিশে হস্তান্তর

ইয়াবা উদ্ধারের দাবি, ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ বললেন সাংবাদিক নেতা

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দৈনিক ডেসটিনির প্রতিনিধি তোফাজ্জাল হোসেনকে (৩২) মারধর করে রশি দিয়ে বেঁধে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। পরে তার কাছ থেকে ১৯টি ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করে মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে সাংবাদিকের পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, তোফাজ্জালকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশ বাদি হয়ে তোফাজ্জাল ও আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে। পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ভৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকায় আশরাফুলের বাড়িতে স্থানীয়রা তোফাজ্জালকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় আশরাফুল পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি।

পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে তোফাজ্জালের আকাশি রঙের শার্টের পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৯টি ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ। এজাহারে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ১৭টি সবুজ ও দু’টি গোলাপি রঙের ইয়াবা ছিল। ওজন প্রায় দুই গ্রাম এবং বাজারমূল্য প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টাকা। একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশের এজাহারেই বলা হয়েছে, স্থানীয়দের আটকের সময় উত্তেজিত জনতার মারধরে তোফাজ্জালের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। প্রশ্ন উঠেছে- আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন নাগরিককে মারধর ও রশি দিয়ে বেঁধে রাখার অধিকার স্থানীয়দের কে দিলো?

গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো: শাহজাহান কবির হীরা তোফাজ্জালকে ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে বলেন, “সে কোনোদিন ধূমপান করে নাই, তাহলে ইয়াবা তার কাছে কিভাবে আসবে?” তার দাবি, প্রথমে ওসি বলেছিলেন, তোফাজ্জালের কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি; পরে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, আশরাফুল একাধিক মাদক মামলার আসামি এবং জনগণ মাদক পেয়েছে বলেই তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে মাদকটি কার কাছ থেকে উদ্ধার হলো, প্রত্যক্ষ সাক্ষী কারা এবং উদ্ধার প্রক্রিয়ার ভিডিও বা অন্যান্য প্রমাণ আছে কিনা- এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। একই সাথে সাংবাদিককে মারধর, রশি দিয়ে বাঁধা ও মবের হাতে আটকের অভিযোগও তদন্ত করতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। তারা বলেন, বের করতে হবে- তোফাজ্জাল সত্যিই মাদক বহন করছিলেন নাকি তাকে ফাঁসানো হয়েছে; কারা হামলা করেছে এবং পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি বা ইন্ধন ছিল কি না। তারা বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব মব নিয়ন্ত্রণ করা, মবকে আইন প্রয়োগের হাতিয়ার বানানো নয়। সাংবাদিক অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে; কিন্তু কাউকে মবের হাতে শাস্তি দেয়ার অধিকার কারো নেই। গৌরীপুরে মবের বিচার নয়, আইনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।