ডালাসে নকআউট ডার্বির মহারণ

আইভরি কোস্ট-নরওয়ে

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইউরোপ বনাম আফ্রিকা। ডালাসে নকআউট ডার্বির মহারণে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়ার পালা নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের। গ্রুপ ‘ই’তে নিজেদের তিন ম্যাচের দু’টিতে জয় পেয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আইভরি কোস্ট। অপরদিকে ‘আই’ গ্রুপে তিন ম্যাচের দু’টি জয়ে ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ ৩২-এ পা রেখেছে নরওয়ে। বাংলাদেশ সময় আজ দিবাগত রাত ১১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছেছে আইভরি কোস্ট। আফ্রিকার দলটির সামনে বড় সুযোগ এসেছে এই উপলক্ষটি যেন নিছক একটি নতুনত্বের চেয়েও বেশি কিছু হয়। ‘লেস এলিফ্যান্টস’রা বিশ্বকাপ শুরুর আগে টানা চারটি ম্যাচ জিতে ১৫ জুন উদ্বোধনী ম্যাচেও সেই গতি ধরে রেখেছিল। যেখানে তারা ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। তবে টরন্টোতে দ্বিতীয় ম্যাচে এমার্স ফায়ের দল জার্মানির কাছে হেরে যায়। যেখানে ফ্রাঙ্ক কেসি প্রথমার্ধে আফ্রিকান দেশটিকে এগিয়ে দিলেও বদলি খেলোয়াড় দেনিজ উন্দাভ জোড়া গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

জুলিয়ান নাগেলসম্যানের তারকাখচিত দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রশংসা কুড়িয়েছিল আইভরি কোস্ট। আজকের ম্যাচে তারা তাদের এই পারফরম্যান্স থেকে সাহস পাবে। যেখানে তারা তুলনামূলকভাবে দুর্বল ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে।

গ্রুপ ‘ই’-তে ‘লেস এলিফ্যান্টস’দের হয়ে নিকোলাস পেপে দুই গোল করে বিশ্বকাপে অভিষেককারী কুরাকাওকে ২-০ গোলে পরাজিত করে। গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই জয়টি ছিল ফায়ের শেষ পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় ক্লিন শিট। আর পেপে এবং ইয়ান দিওমান্দের মতো খেলোয়াড়রা যদি নিজেদের সেরা ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে আইভরি কোস্ট আক্রমণে যেমন এক মারাত্মক হুমকি, তেমনি রক্ষণেও হবে দুর্ভেদ্য। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে কুরাকাওয়ের বিপক্ষে খেলতে পারেননি উইল ফ্রিড সিঙ্গো। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও ডান-পার্শ্বের সেন্টার-ব্যাককে ছাড়াই খেলতে নামতে হতে পারে। তবে রক্ষণভাগের কেন্দ্রে থাকছেন উসমান দিওমান্দে এবং ওদিলন কোসুনু। দুই পাশে থাকবেন গুয়েলা দুয়ে ও ঘিসলাইন কোনান।

আইভরি কোস্টের শক্তি শুধু একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। কোচ এমেরসে ফায়ে এমন একটি দল গড়েছেন যেখানে বিভিন্ন ফুটবলার গোল করার সামর্থ্য রাখেন। অভিজ্ঞ নিকোলা পেপে, তরুণ ইয়ান দিয়োমান্দে এবং আঞ্জ-ইওয়ান বনি আক্রমণভাগে বৈচিত্র্য এনে দিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে পেপের জোড়া গোল দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্টালে সোলবাকেনের নরওয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে খেলছে। সর্বশেষ তারা ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে খেলেছিল। রাউন্ড অব ৩২-এ দলকে উন্নীত করতে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন ফরোয়ার্ড আর্লিং হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার ইরাকের বিপক্ষে ভাইকিংসদের ৪-১ গোলের জয়ে দু’টি গোল করেন। ২৩ জুন আফ্রিকা কাপ অব ন্যাশনসের ফাইনালিস্ট সেনেগালকে ৩-২ গোলের জয়ের ম্যাচে হলান্ডের দ্বিতীয় জোড়া গোলই যথেষ্ট ছিল। এর ফলে ২৫ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ৫২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫৯টি গোলের এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান নিয়ে এই নকআউট পর্বে খেলতে নামছেন।

টুর্নামেন্টে নরওয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দল না হলেও হলান্ডের ফিনিশিংই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি খেলেননি। সেই ম্যাচে ভাইকিংসরা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি লেস ব্লুসদের। ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় নরওয়েজিয়ানরা। সোলবাকেনের দল তাদের শেষ ১০টি ম্যাচের মধ্যে রক্ষণভাগের দুর্বলতার কারণে মাত্র একটিতে ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে, যা ৩১ মার্চ সুইজারল্যান্ডের সাথে ০-০ গোলে ড্র করে।

ঊরুর চোটের কারণে দলের অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকায় খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে রাইট-ব্যাক জুলিয়ান রাইসারসনের। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের এই খেলোয়াড় যদি খেলতে না পারেন, তবে বেনফিকার মিডফিল্ডার ফ্রেডরিক আউর্সনেস ভাইকিংসদের রক্ষণভাগের ডানদিকে চলে যেতে পারেন। মাঝমাঠে স্যান্ডার বার্গ ও মার্টিন ওডেগার্ডের সাথে যোগ দেবেন প্যাট্রিক বার্গ। আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন ম্যান সিটির হলান্ড। বিশ্বকাপে চারটি গোলের সাথে আরো গোল যোগ করে দেশকে শেষ ষোলোতে পৌঁছে দেয়ার আশা করছেন তিনি।

গ্রুপ পর্বে নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন আর্লিং হলান্ড। দুই ম্যাচে চার গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের কাতারে উঠে এসেছেন। শেষ গ্রুপ ম্যাচে কোচ স্তোলে সোলবাকেন তার বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিলেন, যাতে নকআউটে সবাই পুরোপুরি ফিট থাকে। ফলে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নরওয়ে তাদের পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নামবে।

ডালাসের এই ম্যাচে ইউরোপীয় শক্তি নরওয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই আফ্রিকার সাবেক চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টকে। নকআউট পর্বের এক ম্যাচেই সব হিসাব বদলে যেতে পারে, আর সেটাই এই লড়াইকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। ফুটবলে আইভরি কোস্ট কখনো মাঠের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়নি নরওয়ের। ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ উঠার লড়াইয়ে দুই দল প্রথমবারের মতো একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামবে।