স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার : ডা: জুবাইদা রহমান

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান ঢাকায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন : পিআইডি
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান ঢাকায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয় বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তবে সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে সাধারণ জনগণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই মতনিবিময় সভার আয়োজন করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

ডা: জুবাইদা রহমান বলেন, আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তিবাসীর জন্য সাধ্যমতো সর্বাত্মক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার জন্য। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরুৎসাহিত ও অসমভাবে বঞ্চিত। মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকার পেতে প্রতিদিন লাখো মানুষ লড়াই করছে। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ সরাসরি জনগণ বহন করে। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য, আর কোনো দিন কড়াইল-ভাসানটেক ও সাততলার জনগণ চিকিৎসাসেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ সবাই যেন সুচিকিৎসা পায়। অন্তঃসত্ত্বা মা-বোনেরা জটিল সমস্যার সমাধান এবং চিকিৎসা যেন সহজে ও দ্রুত পায়। তিনি বলেন, এই এলাকায় মূলত তাদের বসবাস, যারা এই শহরের জীবনযাত্রা চলমান রেখেছে। পোশাক শিল্পকে উজ্জ্বল করেছে। তাদের অসাধারণ শ্রম প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে সচল রেখেছে। কিন্তু শতকরা ৪২.৬ শতাংশ এলাকাবাসী প্রতিদিন স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খোঁজে স্থানীয় ফার্মেসিতে। তারা যে কোনো মূল্যে সুস্থ হতে চায়। যেন অসুস্থার জন্য ছুটি নিতে না হয়, যা সত্যিই অভাবনীয়।

ডা: জুবাইদা রহমান বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা: জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর ডা: জুবাইদা রহমান আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাজমুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য, এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ। এই আশাটা জনগণের মধ্যে আশার আলো সৃষ্টি করবে। বুঝতে হবে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে একটা দায়বদ্ধতার রাজনীতির মেরুকরণ নতুনভাবে সৃষ্টি করতে চান।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান জানান, নতুন আইসিইউ ইউনিটে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন।