নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী যুবলীগ নেতার ছত্রছায়ায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে এফডিসি-সংলগ্ন প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি মার্কেট (মুরগির আড়ৎ) দখল করতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী আইরিন আক্তার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দক্ষিণ বেগুনবাড়ি এলাকায় (এফডিসি-সংলগ্ন) পৈতৃক ৩০ কাঠার জায়গায় একটি দ্বিতল মার্কেট আছে ওসমান গণির। ওই জায়গা ভাড়া দিয়ে ওসমানের বাবা-মা ও অন্য ওয়ারিশগণ ভাগাভাগি করে জীবিকানির্বাহ করে আসছেন; কিন্তু সন্ত্রাসী ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম বাহার ওরফে হাতকাটা বাহার ওরফে বাহার চৌধুরী ও স্থানীয় রুবেল সরকার ওই সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিলেন।
বাদিনীর অভিযোগ ৩০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় রুবেল সরকার ও সাইফুল ইসলাম বাহারের নেতৃত্বে অন্তত ২০-২৫ জন অস্ত্রধারী লোক ভবনে প্রবেশ করে ভাংচুর চালায়। তারা দরজা জানালা ভেঙে মুরগির আড়তে ব্যাপক লুটপাট চালায়। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় তারা ওসমান গণিকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাক্ষ্য সংগ্রহ করে।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, আগে থেকেই রুবেল সরকার ও সাইফুল ইসলাম বাহার ওসমানের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং এডিট করা বিতর্কিত ছবিসহ আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে পোস্টার লাগিয়ে ওসমানকে এলাকা ছাড়া করে রেখেছে, যাতে তারা সহজে ওই জমি দখল করতে পারে। এর মধ্যে ওসমানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আসামি সাইফুল ইসলাম বাহার নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সদস্য, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শাহ আলী, বাড্ডা, তার নিজ জেলা নোয়াখালী বেগমগঞ্জে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতি, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ওসমানের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে বাহারের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ২১১ ধারায় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ থাকলেও এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
ভুক্তভোগী আইরিন আক্তার বলেন, আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তার পৈতৃক সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে চায় সন্ত্রাসীচক্রটি। আমি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চাই। এ ব্যাপারে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।



