হাদির খোঁজ নিতে ঢামেকে উৎসুক জনতার ঢল কাঁদলেন সহযোদ্ধারা

Printed Edition
ওসমান হাদির সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মানুষের ভিড়  : নয়া দিগন্ত
ওসমান হাদির সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মানুষের ভিড় : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্যপাত্র ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি। চিকিৎসকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাকে সুস্থ করে তুলতে। অন্য দিকে জরুরি বিভাগের বাইরে একে একে জড়ো হতে থাকেন ইনকিলাব মঞ্চ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষরা। তাদের চোখে পানি আর মনে তার সুস্থ হওয়ার দোয়ার আকুতি।

ওসমান হাদিকে দেখতে ঢামেক হাসপাতালে ঢল নামে ইনকিলাব মঞ্চ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের। এ সময় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা হাদির শারীরিক অবস্থার খবর শুনে তাদের অধিকাংশকেই হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা গেছে। কেউ কেউ দু’হাত তুলে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়াও করেন। হাসপাতালের প্রতিটি কোণজুড়ে একই দৃশ্য : উৎকণ্ঠা, কান্না, আর এক ধরনের গভীর অসহায়তা।

সহমর্মিতা জানাতে এসেছেন নানা রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গনের মানুষ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারের সামনে অন্য নেতাকর্মী কাঁধে হাত রেখে কাঁদছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা গেছে। এ সময় পাশেই হতবিহ্বল অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাত রশিদকেও। সেও যেন নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলেন না।

রাকিব হাসান নামে একজন বলেন, হাদি ভাইয়ের ওপর হামলার মানে হচ্ছে জুলাই বিপ্লবীদের ভয় দেখানো। কিন্তু হাদি ভাই ইতোমধ্যে লাখো মানুষের মন জয় করে ফেলেছেন। সব স্তরের মানুষ তাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসে। এভাবে তাকে থামানো যাবে না।

এ সময় দেখা যায়, ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ওসমান হাদিকে দেখাতে হাসপাতলে গেলে উপস্থিত জনতা ‘ভুয়া ভুয়া’ সেøাগন দিতে থাকে। তা ছাড়া অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে তেড়ে গেলে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে দেখতে ঢামেক হাসপাতালের সামনে আসা সমর্থক, উৎসুক জনতা নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টা পর থেকে সেনাবাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করে ঢামেকে। এর আগে থেকেই পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হলেও নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয়। রোগী ও জরুরি সেবা ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ ছাড়া জরুরি বিভাগের প্রবেশমুখে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর বিজয়নগর কালভার্ট রোড দিয়ে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত দু’জন মোটরবাইক থেকে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন ওসমান হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। গতকাল জুমার নামাজের পরে এ ঘটনা ঘটে। তার বাম কানের পাশে এক রাউন্ড গুলি লাগে। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।