নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া মাফিয়া চক্র আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা সরকারের গোচরীভূত হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় তারা মিছিল বা সমাবেশের মাধ্যমে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এটি রুটিন দায়িত্ব।
তিনি বলেন, গত ১৫ জুন দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন শেষে সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া হলেও, বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে কেবল সুনির্দিষ্ট এলাকায় এই সীমিত মোতায়েন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা সরকারের গোচরীভূত হয়েছে। তারা যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য দেশের সব আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে ছয়টি জেলায় (ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা এবং ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ) গতকাল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থার বিষয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী বহু কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশকে সহযোগিতা করতে বিজিবি কিংবা সেনাবাহিনী মোতায়েন একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার-সহ বিগত যেকোনো সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে সামগ্রিক অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান। সংসদ সদস্য কিংবা সাধারণ নাগরিক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের ছেলেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এগারো দলীয় রাজনৈতিক জোটের সমাবেশ এবং দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সমাবেশ করছে, এটি দেশে গণতন্ত্র বিকাশেরই বহিঃপ্রকাশ। তারা তাদের বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছেন। আমরাও আমাদের কথা জনগণের মাঝে তুলে ধরব।
পূজা উদযাপন পরিষদের সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে তার অফিসকক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী একথা বলেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আলোচনাকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্র কর্তৃক রামমন্দির নির্মাণ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী কর্তৃক দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সব সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক। তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার লক্ষ্যে একজন ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নির্ধারণের দাবি জানান। মন্ত্রী দাবিটি বিবেচনার এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।



