দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ভিন্ন প্রকাশনা’

গ্রন্থমেলায় প্রাণের উৎসব

আবুল কালাম
Printed Edition
একুশে বইমেলার স্টলে দর্শনার্থীরা : নয়া দিগন্ত
একুশে বইমেলার স্টলে দর্শনার্থীরা : নয়া দিগন্ত

একুশে বই মেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে ভিন্ন প্রকাশনা। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়ার সুযোগ করে দিতে মেলায় এসেছে ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’। এতে করে না দেখেও স্পর্শের মাধ্যমে ব্রেইল বই পড়ছেন কিংবা শুনছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। দৃষ্টিহীনরা যাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্যই তারা এমন উদ্যোগ নিয়েছে স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’ ও ‘ভিজ্যুয়াল ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোস্যাইটি (ভিপস)’। গতকাল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে স্টলে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ভিড় করে তার চর্চা করছেন দৃষ্টিপ্রতিন্ধীরা। স্পর্শের মাধ্যমে পড়ার সুযোগও পেয়ে তারা ভীষণ আনন্দিত। প্রায় এক যুগের বেশি সময় থেকে মেলায় স্পর্শ ফাউন্ডেশনের ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’ বই প্রকাশ করে আসছে। তারা জানান এ বছর ছয়টি বই প্রকাশ করেছে। এগুলোর সবই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। এ জন্য আগ্রহীদের ফ্রিতে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এ বছর স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনী নতুন ৬টিসহ মোট ১৬৭টি বই নিয়ে এসেছে।

বইমেলার ১১তম দিনে তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ৭৫টি। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আসাদ চৌধুরী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুদরত ই হুদা। আলোচনায় অংশ নেন সৈকত হাবিব। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ আজিজুল হক।

কুদরত ই হুদা বলেন, কবি আসাদ চৌধুরী দীর্ঘ আশি বছর পুরোদস্তুর একজন কবির জীবনযাপন করেছেন। তার কবিতায় সবসময়ই সক্রিয় থেকেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি অপরিসীম দরদ। তার যাপন আর কবিতার মধ্যে ছিল একটা খাঁটি পূর্ববঙ্গীয় ব্যাপার।

তাকে বাংলাদেশের ভাষা, সাংস্কৃতিক ইতিহাস আর নিজস্ব কাব্যপ্রগতির সাথে সহজেই মিলিয়ে পাঠ করা যায়। এ বিষয়টিই আসাদ চৌধুরীকে তার কালের কবিদের থেকে আলাদা করেছে বলে ধারণা করা যায়।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি, গবেষক, সাংবাদিক মাহবুব হাসান। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন রহিমা আখতার কল্পনা।

আজ মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে শহীদুল্লা কায়সার শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শিবলী আজাদ। আলোচনায় অংশ নেবেন প্রশান্ত মৃধা। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলায় ছোটদের সময় প্রকাশনী নিয়ে এসেছে আমিরুল মোমেনীন মানিকের বই ‘হাদী ফিরলেন রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে’, ‘যে আগুন জ্বলে তা আর নেভেনা কভু’ কথার সারধ্বনী হিসেবে এ বইটিতে উঠে এসেছে কালের এক অমোঘ ব্যঞ্জনা। গণতন্ত্র থেকে খেলাফত কিংবা ফেরাউন থেকে মূসার ধারায় আমাদের এ দীর্ঘ রক্তে লেখা যে ইতিহাস গড়ে উঠেছে তারই একছটা স্বাদ দেবে বইটি। কেবল বন্ধুত্ব নয়, বরং দেশপ্রেম, ভূ-রাজনীতি এবং সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো কিশোর-তরুণদের উপযোগী করে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।

মেলায় পাওয়া যাচ্ছে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)-এর বই আয়নাঘরের সাক্ষী। বইটির প্রকাশক প্রচ্ছদ প্রকাশন।।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুমের শিকার মজলুমদের একজন ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। তাকে গুম করা হয় ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট। দীর্ঘ আট বছর তিনি কাটিয়েছেন জীবন-মৃত্যুর মাঝে ঝুলে থাকা এক দুঃসহ বন্দিত্ব। সেই বন্দিত্বের প্রতিটি দিন ছিল বিভীষিকাময়। ব্যারিস্টার আরমানের গুম জীবনের অসহনীয় সময়গুলোকে ধারণ করে প্রকাশিত হয়েছে তার বই আয়নাঘরের সাক্ষী : গুম জীবনের আট বছর।

কবি ও গবেষক মুহম্মদ নূরুল হুদার লেখা ‘শেষ নবী শ্রেষ্ঠ নবী’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সনেটধর্মী (চৌদ্দপঙক্তি) কাব্যগ্রন্থ, যা ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর জীবন ও মহত্ত্ব নিয়ে রচিত। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত এ বইটিতে সনেটের আঙ্গিকে নবী করীম (সা:)-এর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং তাঁর আদর্শের অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

মেলায় পাওয়া যাচ্ছে ইফতেখার সিফাত লিখিত রুহামা পাবলিকেশন প্রকাশিত ‘মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস ও উত্থান-পতনের কারণ বিশ্লেষণ’ বইটিতে লেখক বিষয়টির গভীরে প্রবেশ করে বিশ্লেষণ করেছেন।