নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, রাজনীতিতে বিনয়ের কোনো বিকল্প নেই, দাপট দেখিয়ে কিছু হয় না। যোগ্যতা দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের সাথে নিজের সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার ধীরস্থিরভাবে কথা বলতেন এবং অতিরিক্ত কথা বলতেন না। তিনি বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতেন কথায়। আব্দুস সালাম তালুকদার খুব রসিক মানুষ ছিলেন না, তার মধ্যে শান্তভাব সব সময় ছিল। তিনি ছিলেন একজন সফল ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ।
গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট মিলনায়তনে ঢাকার জামালপুর সমিতির উদ্যোগে, ‘সালাম তালুকদার : নেতা ও মানুষ’ শীর্ষক স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, আব্দুস সালাম তালুকদার যেমন একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন তেমনি তার মধ্যে ছিল একজন মানুষের গুণ।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরহুমের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, জামালপুর ৪ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকার জামালপুর সমিতির মহাসচিব ও ক্যান্সার প্রতিরোধ আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক ডা: হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
ডা: হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনে বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সালাম তালুকদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ডা: রাসকিন বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন হিসেবে বিএনপির হাল ধরার পর স্বৈরাচারী এরশাদের নানা প্রলোভনে যখন দলের বড় নেতারা তাকে ছেড়ে যাচ্ছিল, তখন সবচেয়ে যোগ্য ও আস্থাভাজন বিবেচনায় তিনি ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। এই আস্থার মর্যাদা তিনি রেখেছেন। তার গভীর দেশপ্রেম, প্রশ্নাতীত সততা, উন্নত শিক্ষা ও মননশীলতা, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ তাকে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনমনে আলাদা অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে। ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম এমপি বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার কেবল জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক। ব্যক্তিগতভাবে তিনি এক বটবৃক্ষের মতো ছিলেন, যার ছায়াতলে থেকে দেশপ্রেম ও রাজনীতির আসল পাঠ গ্রহণ করেছেন। ক্ষমতার শীর্ষপর্যায়ে থেকেও কিভাবে মাটির কাছাকাছি থাকা যায় এবং মানুষের মন জয় করা যায়, তা সালাম তালুকদার দেখিয়ে গেছেন।
সমিতির সহসভাপতি আফজাল খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক মহাসচিব মো: নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: মুজিবুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, হাসিনুর রহমান চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: হাসানুজ্জামান শিবলী, মেজর (অব:) আব্দুর রব ও ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন সমিতির যুগ্মমহাসচিব হুমায়ুন কবীর আকন্দ।



