নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে শুরু হওয়া সংঘর্ষ প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে কলেজ রোডের চাষাঢ়া এলাকা থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর কলেজের শের-ই-বাংলা ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সাথে ছাত্রী নিবাসেও চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম, অর্থ সম্পাদক জুবায়েদ, মনির, ইসমাইল এবং ছাত্রদল নেতা তুহিন আহমেদসহ উভয় পক্ষের আরো কয়েকজন।
ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি অমিত হাসান অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে কলেজের ভেতরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে তার সংগঠনের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। অন্য দিকে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া দাবি করেন, ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই তারা সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হলেও তাদের আঘাত গুরুতর নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্তের মাধ্যমে সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সংঘর্ষের পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়লেও ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের কলেজ রোড, জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল করতে দেখা যায়। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীবসহ বিএনপির নেতারা কলেজে গিয়ে প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেন। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আবদুল জব্বারও সঙ্ঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রাখতে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।



