বিবিসি
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতিতে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। মুম্বাই সফরের আগে তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি সদ্য স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির সুফল তুলে ধরতে যাচ্ছেন। গতকাল বুধবার স্টারমার ১০০ জনেরও বেশি উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে এসেছেন, যার লক্ষ্য যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সাথে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিশাল সুযোগ রয়েছে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভারতীয় কর্মী বা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা রুট খোলার কোনো পরিকল্পনা নেই। ‘বিষয়টি ভিসা নয়,’ বলেন স্টারমার। ‘এটি ব্যবসাভিত্তিক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং যুক্তরাজ্যে সমৃদ্ধি আনার বিষয়।’ জুলাইয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর ব্রিটেন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এতে ব্রিটেনের গাড়ি ও হুইস্কি ভারতে রফতানি সহজ হবে এবং ভারতের টেক্সটাইল ও গহনা ব্রিটেনে কম দামে পৌঁছাবে। চুক্তিতে ভারতীয় কর্মীদের জন্য তিন বছরের সামাজিক নিরাপত্তা কর ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে অভিবাসন নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি। লেবার সরকার অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করেছে এবং সম্প্রতি পার্টি সম্মেলনে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে কঠোরতা ঘোষণা করেছে।
মুম্বাই যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, ‘ভিসা এই চুক্তির অংশ নয় এবং পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা পরিবর্তনের পর ব্রিটেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করতে চাইবে কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্রিটেন ‘বিশ্বজুড়ে সেরা প্রতিভা’ চায়, তবে ভারতের জন্য নতুন ভিসা রুটের কোনো পরিকল্পনা নেই। এই সফরে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ দিল্লি-হিথরোর মধ্যে তৃতীয় দৈনিক ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে এবং ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর দিল্লির সাথে সরাসরি রুট চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে।
দুই দিনের সফরে স্টারমার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাৎ করবেন। মোদি এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। স্টারমার বলেন, ‘আমি পুতিনকে শুভেচ্ছা পাঠাইনি, পাঠাবও না।’ রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মোদিকে সমালোচনা করবেন কি না- এ প্রশ্নে স্টারমার বলেন, ব্রিটেনের নজর রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ নামক অনিয়ন্ত্রিত ট্যাংকারের ওপর, যা রাশিয়া থেকে তেল পরিবহন করে। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে ব্রিটেন অন্যতম নেতৃত্বদানকারী দেশ।’
গতকাল বুধবার সকালে মুম্বাই বিমানবন্দরে নামেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে ও অজিত পওয়ার।



