মেহেদুল হাসান আক্কাছ গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার। মাদকের টাকা না পেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সন্তানকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফেরাতে প্রশাসনের সহায়তা চাইছে।
গোয়ালন্দ পৌরসভার ১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুই ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রেনু বেগম ও রেশমা বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ছেলেরা ইয়াবা ও গাঁজায় আসক্ত। প্রতিদিন মাদকের জন্য টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারলে ঘরের আসবাব ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। থানায় অভিযোগ করেও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দৌলতদিয়া ও গোয়ালন্দের বিভিন্ন এলাকা, বাজার, রেলস্টেশন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশসহ কয়েকটি স্থানে একসময় মাদক বেচাকেনা চলত। সম্প্রতি প্রশাসনের নজরদারি বাড়ায় মাদক সরবরাহ কিছুটা কমেছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে মাদকাসক্তদের মধ্যে নেশার জন্য অস্থিরতা বেড়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকজন মাদকাসক্ত যুবককে একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলেও কিছুদিন পর আবার নেশায় জড়িয়ে পড়ে। নেশার টাকা জোগাড় করতে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।
পৌর এলাকার এক মাদকাসক্ত যুবকের বাবা আব্দুল হালিম বলেন, ‘ছেলেকে সুস্থ করতে চাই। কিন্তু তার ভয়ে এখন ঘরেই থাকতে পারি না।’ প্রতিবেশী সালমা খাতুন বলেন, ওই যুবকের কারণে পুরো মহল্লার মানুষ অতিষ্ঠ। রাতেও চিৎকার-চেঁচামেচি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মাদকের সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য উপজেলায় সরকারি উদ্যোগে নিরাময়কেন্দ্র স্থাপন করা হোক।
গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, মাদক একজন ব্যক্তির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গ্রেফতারের পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জরুরি।
উপজেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসীর মামুন খান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান চলমান রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিবার চাইলে মাদকাসক্তদের নিরাময়কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।



