আলেম ও এতিমদের সম্মানে ইফতার

পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দরিদ্রতা মোকাবেলা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইফতার মাহফিলে এতিমদের সাথে কুশলবিনিময় করেন : পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইফতার মাহফিলে এতিমদের সাথে কুশলবিনিময় করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাকাত বোর্ড পুনর্গঠন করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাকাত দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দরিদ্রতা মোকাবেলা করা সম্ভব। তাই জাকাতের অর্থ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করার মাধ্যমে দরিদ্রতা হ্রাস করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী দরিদ্র সব মিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি চার কোটি। এদের মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ করে টাকা জাকাত দেয়া হয়, আমার বিশ্বাস এদের বেশির ভাগ পরিবারকে পরের বছর আর জাকাত না-ও দিতে হতে পারে। লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত দেয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

গতকাল শনিবার আলেম ওলামা এবং এতিমদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত

ইফতার মাহফিলে বিকেল সোয়া ৫টায় আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসেই তিনি অতিথিদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন। এর পর ৫ টা ৩৫ মিনিটে তিনি সবার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলেমদের সম্মানে রমজানের প্রথম দিনেই ইফতারের আয়োজন করে থাকি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবার একটু দেরি হয়েছে। এতিমদের ব্যাপারে সরকার ও রাষ্ট্রের অবস্থান কেমন তা আজকের এই ইফতার আয়োজন দিয়েই বোঝা যায়। যারা রমজান মাসেও অশুভ পন্থা অবলম্বন করছেন, তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের আহ্বান জানাই, জনগণের ওপর জুলুম করবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সমাজ কল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা: আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, শুধু কওমি মাদরাসাগুলোয় প্রায় সাত লাখ এতিম শিশু লালিত পালিত হচ্ছে। দেশে প্রায় চার লাখ মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদের ইমামদের দিয়ে নানা ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে : রোববার ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষে দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদ্যমান সমাজে সমতা হোক অঙ্গীকার, মর্যাদা হোক বাস্তবতা, আর ক্ষমতায়ন হোক উন্নয়নের ভিত্তি। সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সব স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা। সরকার নারীর নিরাপত্তা বিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাইবার বুলিং এবং অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের রাষ্ট্র সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। নারীদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্র্যাসি বেগম খালেদা জিয়া যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। শহীদ জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দফতর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ যা পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়েছিল।

নারীর আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।