নিজস্ব প্রতিবেদক
ডায়াবেটিসে দীর্ঘদিনের মেডিক্যাশন ইনসুলিন বন্ধজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে সুখী বেগমের (৩৬)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একজন অ্যান্ডোক্রাইনোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ডায়াবেটিস মেলিটাসের এ রোগী। কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যায় তিনি আর ফলোআপ করতে আসছেন না। পরে ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে তিনি আবারো আসেন ঢামেক হাসপাতালে। সেখানে অ্যান্ডুক্রাইনোলজিস্টদের কাছে সুখী বেগম জানান, অনলাইনে আলোচিত চিকিৎসক জাহাঙ্গীর কবিরের হেলথ রেভ্যুলিউশন লিমিটেডের পরামর্শে ইনসুলিন বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কিটোডায়েটের খাবার তালিকা মেনে চলেন। একই সাথে উচ্চ দামের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে থাকেন। ফলে সুখী বেগম সিভিয়র ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিসে (ডায়াবেটিসের মারাত্মক জটিলতা) ভুগেন।
এ অবস্থায় সুখী বেগম আবার ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডুক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
এ ঘটনায় ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডুক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: ইন্দ্রজিত প্রসাদ ওই নারী অপচিকিৎসার শিকার হয়ে হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা: মো: নুরুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন চলতি বছরের ৫ মে। অভিযোগে তিনি বলেন, সুখী বেগমকে ওই কোম্পানি শর্করাবিহীন অস্বাস্থ্যকর উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার তালিকা মেনে চলতে বলা হয়। একই সাথে অপ্রয়োজনীয় ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট খেতে দেয়া হয়। এ সাপ্লিমেন্ট অনুশীলনের কারণে সুখী বেগমের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়।
অভিযোগ পাওয়ার পর পরিচালক ডা: মো: নুরুল ইসলাম ইসলাম গত ৩ সেপ্টেম্বর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং মেডিসিনের অধ্যাপক ডা: মো: মুনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। এ কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা: মো: মাহমুদুর রহমান।
কমিটির অন্যরা হলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: এম এ হালিম খান, ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: হুরজাহান বানু ও বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: আজিমুন্নেছা শিউলী।
এ কমিটি গঠন সম্বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা: মো: নুরুল ইসলাম বলেন, এটাই নতুন নয়, একই ধরনের আরো অনেক অভিযোগ এসেছে এর আগে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করে দেয়া হয়েছে। এ কমিটিতে যেমন অ্যান্ডুক্রাইনোলজিস্ট আছেন, তেমনি আছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং ফার্মাকোলজিস্ট। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ দিকে অধ্যাপক ডা: ইন্দ্রজিত প্রসাদ তার অভিযোগপত্রে একটি কিটোডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির নাম বললেও শুধুমাত্র রাজধানীতেই সাপ্লিমেন্ট ও কিটোডায়েট কোম্পানি রয়েছে ডজনখানেক। তারা অনলাইন ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে তাদের পণ্য বিক্রি করে যাচ্ছেন উচ্চ দামে। কিটোডায়েট করে এর আগে আরো অনেকেই মারা গেছেন। এর মধ্যে রামপুরার বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে ওজন কমাতে গিয়ে। জুনিয়র ক্লাসে পড়া অবস্থায় ওই ছেলেটির ওজন ছিল ৯০ কেজি, সে রাতারাতি ছিমছাম হওয়ার জন্য কিটোডায়েট করে; কিন্তু একটা সময় এসে সে আর তার শরীরের ওজন কমা বন্ধ করতে পারেনি। এটা নিয়ে সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সমালোচনা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।



