বিলীন হতে চলেছে শাহবাগ শিশু পার্ক

কবে চালু হবে তা অনিশ্চিত : কাজ এখনো অর্ধেক বাকি

আবুল কালাম
Printed Edition
শাহবাগ শিশুপার্কের বর্তমান চিত্র : নয়া দিগন্ত
শাহবাগ শিশুপার্কের বর্তমান চিত্র : নয়া দিগন্ত

স্মৃতি থেকে বিলীন হতে চলেছে শাহবাগ শিশুপার্ক। সংস্কারের নামে ২০১৯ সালে এ পার্ক বন্ধ করে দেয়ার পর চলমান উন্নয়ন কাজ দেখিয়ে তা চালু করতে একাধিকবার অশ্বাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত হলে উন্নয়ন কাজের অসমাপ্তির দোহাই দিয়ে তা আর চালু হয়নি। তা আদৌ চালু হবে কি না তারও নিশ্চয়তা দিতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান নানান অজুহাতে বিগত সরকার তা ঝুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তা একই অবস্থায় রয়েছে। এ উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের কোনো উদ্যোগই নেননি। যার কারণে প্রায় বছর পরও তার অর্ধেক কাজও সম্পন্ন না করে তা অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কবে তা চালু হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে যার অর্ধেক কাজ হয়েছে তার বাকি কাজ করতে আরো কয় বছর লাগবে আর কবে চালু হবে তার সবই অনিশ্চিত। এ বছর চালু সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ’অসম্ভব’।

অন্য দিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করলে ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে কেউ এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পার্কের সংস্কারকাজ শেষ হয়ে পার্কটি চালু আছে এমন ধারণা থেকে প্রতিদিন শিশু-কিশোরদের নিয়ে অনেকে পার্কের সামনে আসছেন। কিন্তু পার্ক চালু না হওয়ায় তারা আক্ষেপ আর হতাশা নিয়েই ফিরে যান। উন্নয়নে সীমানা ঘেরা পার্কের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় এখন মাঝামাঝি ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিং, জলাধারা, আন্ডারপাস, হাঁটার পথ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজ কিছু কিছু শেষ হয়েছে। তবে মূল শিশুপার্কটিতে কোনো কাজই শুরু হয়নি। পূর্বতন শিশুপার্কটির পুরো মাঠের মাটি উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে সেখানে উপস্থিত একজন নিরাপত্তাকর্মী কিছুই বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জহিরুল ইসলাম গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, এ বছর তা চালু সম্ভব হবে না। কবে হবে তাও অনিশ্চিত। কতটুকু কাজ এ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে তাও বলা যাচ্ছে না। তবে অনেক দিন কাজ বন্ধ ছিল। এখন আবার কাজ শুরু হয়েছে। সীমানা নির্ধারণে সমস্যা কেটেছে। এখন রাইট কিনতে স্থানীয় সরকারের অধীনে কমিটি হয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে তা চূড়ান্ত হবে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পার্কটির আধুনিকায়নে বিগত সরকারের সময়ে প্রায় ৬০৪ কোটি টাকা একনেক থেকে অনুমোদন পেয়েছিল। এর মধ্যে ৪৮৩ কোটি টাকা দেবে সরকার। এই টাকার ৫০ ভাগ অনুদান এবং ৫০ ভাগ ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছে। বাকি ১২০ কোটি টাকা দক্ষিণ সিটির তহবিল থেকে খরচ করার কথা। অনুমোদিত প্রকল্পের ৪১৫ কোটি টাকা খরচ হবে ১৫টি অত্যাধুনিক রাইড কেনা ও স্থাপনে।

প্রায় ১৫ একর জমির ওপর ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজধানীর শাহবাগ শিশুপার্ক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে শিশুপার্কটি বন্ধ ঘোষণা করে।

তৃতীয় পর্যায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই শিশুপার্কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য বন্ধ রাখা হয়। নোটিশে জানানো হয়, সার্বিক বিষয় ও দুর্ঘটনা থেকে নাগরিকদের রক্ষায় রাখতে সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয় কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক।

শিশুপার্কের স্থানের মাঝামাঝি ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিং, জলাধারা, আন্ডারপাস, হাঁটার পথ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। এই কাজ শেষে শিশুপার্কের স্থান ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়ার পরই কাজ শুরু করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পার্কটির আধুনিকায়নে ১৫টি রাইড যুক্ত করার কথা রয়েছে। এতে থাকবে, সুপার এয়ার রেস, টি কাপ-৯, ফ্লাইং ক্যাসেল, মিনি কোস্টার, বাম্পার কার, ম্যাজিক বাইক, সুপার হ্যাপি সুইং, মেরি-গো-রাউন্ড ও ওয়াটার মেনিয়া।