১২ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাখ কোটি টাকার এলএনজি কিনবে সরকার

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

জ¦ালানিখাতে বিদেশ নির্ভরতা আগামীতে আরো বাড়বে। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি থেকে ১২ বছর মেয়াদে ১১৭ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই পরিমাণ এলএনজি কিনতে ব্যয় করতে হবে এক লাখে কোটি টাকার বেশি পরিমাণ অর্থ।

গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভাটি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘গানভর এলএলসি’ থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। বাকি তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (বিনান টেন্ডারে) ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

এ চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সাথে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৮ সালে আরো তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সাথে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে। ফলে, ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনতে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী সরকারকে ব্যয় করতে হবে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ব্যবস্থায় এলএনজি সংগ্রহের মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

টেন্ডার ছাড়াই আসছে ৮ কার্গো এলএনজি

এদিকে, দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আট কার্গো এলএনজি আমদানিরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, দু’টি কার্গো করে চারটি দেশের চারটি কোম্পানি থেকে এই এলএনজি কার্গোগুলো আমদানি করা হবে। এর মধ্যে হংকং-এর ‘ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেড’ থেকে দুই কার্গো; মালয়েশিয়ার ‘পেট্রোনাস এলএনজি লিমিটেড’ থেকে দুই কার্গো; চীনের ‘চায়না রানজে হোল্ডিং গ্রুপ লিমিটেড’ থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘দারাব ইঙ্ক’ থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এ ছাড়া বৈঠকে আরো দু’টি প্রস্তাব সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এগুলো হচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘জিনাই-ঘাঘট-বংশী ও নাগদা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, নৌ-পথের উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মোট ২৫টি প্যাকেজ কাজ বাস্তবায়নে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগ।

অপরটি হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অ্যানরয়েড ট্যাব ক্রয়। তবে কতগুলো ট্যাব কেনা হবে জানা যায় নি।