গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরের শিল্পনগরী টঙ্গীতে আলোচিত সশস্ত্র মোটরসাইকেল মহড়া, চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা দখলের অভিযোগে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান। মামলায় টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরো ৭০ থেকে ৮০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত দুই দিনে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রিয়াজন ওরফে রাজন (৩০), জাহাঙ্গীর শেখ ওরফে জমির (২৭), জহির (৩৩), বায়েজিদ (২৯), রাজিব হাসান (২৯), হোসাইন (৩৪), রাসেল ওরফে খাবরি (২৮), সাগর ওরফে নয়ন (২০), মনোয়ার হোসেন (২৮), তৌহিদুল সজীব (৩৫) ও রনি খান (৩৯)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জিত মালামাল (ঝুট) ব্যবসা করে আসছিলেন নুরুজ্জামান। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন নাজমুল হোসেন মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি চক্র তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন ২৮ জুন দুপুরে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে তার ব্যবসা দখলের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় একটি কারখানায় ঢুকে করে নুরুজ্জামানের কাছে ঝুট বিক্রি না করতে কারখানা কর্তৃপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে মামলায় আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডল। তিনি দাবি করেন, মামলার বাদী নুরুজ্জামান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইয়াসিন ও সেলিমের সহযোগিতায় পাগাড় ও বিসিক এলাকায় ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিয়মিতভাবে ওই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।



