মেক্সিকো-ইকুয়েডর জমাট রক্ষণ বনাম গতির লড়াই

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

উত্তর আমেরিকা বনাম দক্ষিণ আমেরিকা। শেষ ৩২-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে ইকুয়েডর। এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে নকআউটের এই লড়াইয়ে নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকা রাখবে স্বাগতিকদের সমর্থন। তবে গ্রুপ পর্বে ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ মানসিকতা দেখানো ইকুয়েডরও আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে। তাই ম্যাচটি শুধু দুই দলের নয়, দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও। বাংলাদেশ সময় কাল সকাল ৭টায় শুরু হবে মাঠের লড়াই।

গ্রুপ পর্বে মেক্সিকো ছিল দুর্দান্ত। তিন ম্যাচেই জয় তুলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে উঠেছে হাভিয়ের আগিরের দল। দলীয় পারফরম্যান্সও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষের জালে ছয়বার বল পাঠালেও একটি গোলও হজম করেনি ‘এল ত্রি’ হিসেবে পরিচিত দলটি। রক্ষণে সংগঠিত ফুটবল, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে কার্যকর ফিনিশিং- সব মিলে টুর্নামেন্টের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে মেক্সিকো।

এ দিক থেকে ইকুয়েডরের যাত্রা ছিল অনেক বেশি নাটকীয়। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বকাপে নবাগত কুরাসাওয়ের সাথে ড্রতে কঠিন চাপে পড়ে ল্যাটিন অঞ্চলের দলটি। কিন্তু শেষ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। আর এই ম্যাচে শুরু চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারানোতেই শেষ নয়, সেই সাথে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। এতে আত্মবিশ্বাসও ফিরেছে পুরো দলের। নিলসন আঙ্গুলো ও গনসালো প্লাতার গোল দেখিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিতেও ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে ইকুয়েডরের।

রক্ষণভাগে মেক্সিকোর দৃঢ়তা এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিন ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়া কেবল পরিসংখ্যান নয়, তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণব্যবস্থারও প্রমাণ। অন্য দিকে ইকুয়েডরের রক্ষণ মাঝে মধ্যে চাপে ভুল করেছে, তবে শেষ ম্যাচে জার্মানির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে তারা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে।

চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে আগুইরে রাউল হিমেনেজকে বিশ্রাম দিলেও ইকুয়েডরের বিপক্ষে প্রথম একাদশে ফেরাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পর ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক গিয়েরমো ওচোয়ার অবসরে চলে যাওয়ায় মেক্সিকোর গোলপোস্ট আগলে রাখবেন রাউল রাঙ্গেল। চেকিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথম একাদশে খেলা সর্বকনিষ্ঠ মেক্সিকান খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েন। হোর্হে সানচেজ, সিজার মন্তেস, ইয়োহান ভাসকেজ ও জেসুস গালার্দোকে নিয়ে গঠিত রক্ষণভাগ অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তারা গ্রুপ পর্বে টানা তিনটি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি।

জার্মানির বিপক্ষে জয় এনে দেয়া একাদশে বড় কোনো পরিবর্তন আনবেন বলে মনে করেন না বেকাসেস। আর্সেনাল ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপির সাথে রক্ষণভাগে খেলা চালিয়ে যাবেন অ্যালান ফ্রাঙ্কো, জোয়েল অর্দোনেজ, উইলিয়ান পাচো। জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচজয়ী অবদানের পর আক্রমণভাগে জায়গা ধরে রাখতে পারেন প্লাটা। ৩৬ বছর বয়সী ইকুয়েডরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়া এই ম্যাচে খেলতে নামছেন। দেশের হয়ে ৫০টি আন্তর্জাতিক গোল করা থেকে মাত্র এক গোল দূরে এই ফরোয়ার্ড।

এই ম্যাচের বড় লড়াই হতে পারে মাঝমাঠে। মেক্সিকো যদি বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তাহলে ইকুয়েডরের পাল্টা আক্রমণের সুযোগ কমে যাবে। কিন্তু ইকুয়েডর যদি মাঝমাঠে চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত ট্রানজিশনে যেতে পারে, তাহলে মেক্সিকোর রক্ষণকেও কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে।

স্বাগতিক ও অতীত পরিসংখ্যানের হিসেবে এই ম্যাচে এগিয়ে মেক্সিকো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে ২৮টি মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৭টি জয় মেক্সিকো। চারবার জয় পেয়েছে ইকুয়েডর। আর ৭টি ম্যাচ ড্রতে শেষ হয়। বিশ্বকাপে একবারই মোকাবেলা করেছিল দুই দল ২০০২ সালে। সেখানেও ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল মেক্সিকো। দুই দলের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে গত অক্টোবরে ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তবে শেষ ১৬-তে উঠার লড়াইয়ের ম্যাচে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে পরিবেশ। মেক্সিকো সিটির উচ্চতা এবং স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ইকুয়েডরের।