নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সপ্তাহে দু’দিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলবে। গতকাল রোববার হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দীর্ঘ অবকাশকালীন ছুটি শেষে আজ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্টের ৬৩টি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৯টি একক বেঞ্চ ও ৩৪টি দ্বৈত বেঞ্চ রয়েছে। ২০২৬ সালের ৮৪ নম্বর বেঞ্চ গঠনবিধিতে বলা হয়, আগামী ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য বেঞ্চগুলো গঠন করা হলো।
গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে রুল : এ দিকে রাজধানীসহ সারা দেশে গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আইন সচিব, শ্রম সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খাদিজাতুল কোবরা। এর আগে রাজধানীসহ সারা দেশে গৃহকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট খাদিজাতুল কোবরা।
অনলাইন ক্লাসের নির্দেশনা চেয়ে রিট
দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে অনলাইন পাঠদান চালুর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। আজ সোমবার সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, রিটকারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও দেবাশীস রায়ের বেঞ্চে রোববার শুনানির জন্য জমা দেয়া হলে এ দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
এর আগে দেশে হামে ৪৭ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সেই সাথে হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়। গত ২ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করা হয়। তবে অবকাশকালীন সময়ে হাইকোর্টের দু’টি বেঞ্চ রিটটি শুনতে চাননি। রিটে আরো বলা হয়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার প্রাপ্যতা বজায় রাখতে না পারা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও জরুরি সাড়া প্রদানে ঘাটতি এসবই সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সাথে হামের টিকা না কেনার ঘটনায় দুদকে একটি তদন্ত চেয়ে আবেদন করা আছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্থগিত রাখা প্রয়োজন। এর বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বা অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই রিটের শুনানিতে আদালত কী আদেশ দেন, সে দিকে এখন সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে চালু হচ্ছে নৈশকালীন ডাকঘর : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাব-পোস্ট অফিসের পাশাপাশি এখন থেকে নৈশকালীন ডাকঘর বা দ্বিতীয় শিফটে ডাকসেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাক অধিদফতর। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের দীর্ঘ দিনের একটি দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। ডাক অধিদফতর থেকে জারি করা পত্রে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের ডাকসেবা গ্রহণের সুবিধা এবং সরকারি কাজের স্বার্থে হাইকোর্ট উপ-ডাকঘরের গ্রাহকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই নৈশকালীন ডাকঘর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পোস্টমাস্টার জেনারেল (মেট্রোপলিটন সার্কেল, ঢাকা) বরাবর পাঠানো ওই পত্রে দ্বিতীয় শিফট চালু করার পর পরবর্তী তিন মাসের ‘ভ্যালু রিটার্ন’ সংবলিত প্রতিবেদন অধিদফতরে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড এস এম আরিফ মণ্ডল ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, উচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ আদেশ ও আইনজীবীদের জরুরি চিঠিপত্র দ্রুত আদান-প্রদানের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে একটি সান্ধ্যকালীন বা ‘বি-গ্রেড’ ডাকসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এই দ্বিতীয় শিফট চালু হওয়ার ফলে প্রতি কার্যদিবসে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গ্রাহক সেবা গ্রহণ করা যাবে।
এর ফলে, বিচারপ্রার্থী জনসাধারণের কাছে অতি দ্রুত আইনি চিঠিপত্র পাঠানো সম্ভব হবে। ফৌজদারি মামলায় উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের আদেশগুলো দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালতে পৌঁছাবে। অনলাইনে জামিনের আদেশ পাঠানো হলেও দাফতরিক প্রক্রিয়ায় ডাকযোগের মূল আদেশের গুরুত্ব অপরিসীম; নতুন এই ব্যবস্থার ফলে ডাকযোগে আদেশ পৌঁছাতে আর বিলম্ব হবে না। দ্রুত ডাকসেবা নিশ্চিত হওয়ায় একজন নিরপরাধ মানুষ উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত জেলখানা থেকে মুক্তি পাবেন।



