নয়া দিগন্ত ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম দ্য ডন জানায়, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আলোকেই এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর স্থিতি স্বাভাবিক করতে পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ আলোচনা ও কূটনীতিকে সমর্থন দেয়া অব্যাহত রাখবে, কারণ এটিই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র কার্যকর পথ। আমরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনা আবার শুরু করার সব প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই। মুখপাত্র যোগ করেন চুক্তি এবং গত ২২ জুনের পাকিস্তান-কাতার যৌথ বিবৃতির মূল ভাবধারার আলোকে সব বাধা দূর করতে দু’পক্ষকে ইসলামাবাদ স্মারকে ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
আন্দোরাবি উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক কিছু দিনের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি আশা জাগালেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো সঙ্কটপূর্ণ রয়ে গেছে। ইসলামাবাদ স্মারক ও পাকিস্তান-কাতার যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণ করা এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা আবার শুরু করার প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। গত এপ্রিলে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং পরবর্তীতে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে সাম্প্রতিক সঙ্ঘাত এই চুক্তির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
৩টি এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের
জর্দানের পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমির আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আমেরিকার তিনটি এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং আরো তিনটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের এরোস্পেস ফোর্স একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে আমেরিকার এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান রাখার র্যাম্প এবং রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গারে হামলা চালিয়েছে। ইরানের কিশম দ্বীপে দু’টি আবাসিক বাড়িতে আমেরিকার হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে। আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় তিনটি এফ-থার্টিফাইভ বিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আরো তিনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিহত হয়েছেন।
কিশম দ্বীপে আমেরিকার হামলার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও দু’জন আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইআরজিসির এই বিবৃতি আসে। এর আগে বৃহস্পতিবার জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, ইরান থেকে তাদের ভূখণ্ডের দিকে ছুড়ে মারা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে। টানা চার দিন ধরে এমন ঘটনা ঘটছে বলে জর্দান উল্লেখ করে। এর আগে বুধবারেও জর্দান পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং মঙ্গল ও সোমবারে ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল। এ দিকে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে দক্ষিণ ইরানজুড়ে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত
উত্তর-পশ্চিম ইরানে বৃহস্পতিবার ভোরে আমেরিকার এক হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তিন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসির একটি প্রদেয় প্রদেশিক শাখার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, এই বর্বর হামলাটি জানজান প্রদেশে চালানো হয়েছে। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে তারা ইরানে এক দফায় ভারী বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে।



