নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বগুড়া সদরে এক সাবেক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক কলেজছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ফরিদপুরের বিদেশ ফেরত যুবক আকাশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়া সদরে সাইফুল ইসলাম (৫০) নামের সাবেক এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার আশোকোলা পূর্বপাড়া (বাঘোপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাইফুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি নুনগোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের সদস্য ছিলেন। জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার হয়ে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মো: শামিম (২৩) নামের এক কলেজছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশটি ঘাতকের বাড়ির পাশে মাটি চাপা দেয়া হয়। নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। সে বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের (সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) শেষ বর্ষের ছাত্র। পুলিশ ঘাতক অনিক (২৮) কে গ্রেফতার করেছে।
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে অপহৃত বিদেশফেরত যুবক আকাশ সরদার (২১)-এর অর্ধগলিত লাশের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। থানার ওসি মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদারের ধারাবাহিক তদন্তে আকাশের অবস্থান ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু বেরিয়ে আসে। পরে র্যাবের সহযোগিতায় গ্রেফতার করা এক আসামির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের একটি ড্রেন থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের একটি ড্রেন থেকে আকাশের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধারে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। আর মামলার আসামি গ্রেফতারে সহযোগিতা করে র্যাব।
নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার রহমত বেপারীপাড়া চাঁদপুর এলাকার করিম সরদারের ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে বেকার থাকায় চাকরির সন্ধান করছিলেন আকাশ।
২ আগস্ট আকাশের বাবা করিম সরদার বাদি হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। এতে মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু, অপু মিয়া (২৫) ও সুমন মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে আকাশকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।
মামলা হওয়ার পর থেকেই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওসি মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তদন্ত কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদার মামলার নানা দিক খতিয়ে দেখেন। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন সূত্র যাচাই এবং মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে একের পর এক ক্লু বের করার চেষ্টা চালান তিনি। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুর অবস্থানও শনাক্ত করা হয়।
পরে র্যাবের সহযোগিতায় মিঠুকে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তকারীরা যাচাই করেন। এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এক পর্যায়ে ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের ড্রেন থেকে আকাশের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।



