নন্দীগ্রামে বেশি দামে টিএসপি বিক্রি

এক হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে

Printed Edition

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা

বগুড়ার নন্দীগ্রামে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিএসপি সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লাইসেন্সবিহীন কিছু বিক্রেতা ও কয়েকজন ডিলারের বিরুদ্ধে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত কয়েকজন দাবি করেছেন, তারা নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রামে বিসিআইসি ও বিএডিসির ৩৬ জন সার ডিলার রয়েছেন। এর মধ্যে বিসিআইসি ডিলার ১৩ জন এবং বিএডিসির ২৩ জন। কৃষি অফিসের দাবি, অধিকাংশ ডিলার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করলেও কিছু বিক্রেতার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাম নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারে লাইসেন্সবিহীন সার বিক্রেতাদের তৎপরতার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, থালতামাঝগ্রাম ইউনিয়নের ত্রিমহনী বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার মজুদ ও বিক্রি করছেন ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম। কৃষি কর্মকর্তারা তাকে লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি না করতে একাধিকবার সতর্ক করলেও তিনি তা মানছেন না বলে অভিযোগ।

এ ছাড়া সোনাকানিয়া বাজারের সার ডিলার একরাম হোসেনের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একরাম হোসেন বলেন, তিনি সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি করছেন।

সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, কৃষকপর্যায়ে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি কেজি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা নির্ধারিত এক হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে কোথাও এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে।

এ দিকে কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে সার মজুদ করে খোলাবাজারে না ছেড়ে বেশি দামে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

লাইসেন্সবিহীন সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। গত সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সবিহীনতা ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে তিন সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন। এ ছাড়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সার সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।