রাজশাহীতে ‘ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট’ অ্যাপ চালু : পাঁচ দিনে একবার মিলবে জ্বালানি

Printed Edition

রাজশাহী ব্যুরো

গ্রাহক হয়রানি কমানো, দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি দূর করা এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ রোধে রাজশাহীতে চালু হয়েছে ‘ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট’ মোবাইল অ্যাপভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। গত রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টায় নগরীর কুমারপাড়ার গুলগফুর ফিলিং স্টেশনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ব্যবস্থায় রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। এর আওতায় একজন মোটরসাইকেল চালক প্রতি পাঁচ দিনে একবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার এবং মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার চালক সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার পেট্রল বা ডিজেল কিনতে পারবেন। ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্ক্যান করে জ্বালানি সরবরাহ করবেন। এতে আলাদা করে গ্রাহক নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমবে এবং গ্রাহকেরা সহজে জ্বালানি নিতে পারবেন। একই সাথে কেউ যাতে অবৈধভাবে তেল মজুদ করতে না পারে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরো জানান, কোনো গ্রাহক একবার তেল নেয়ার পর পরবর্তী পাঁচ দিন পার না হলে পুনরায় জ্বালানি নিতে পারবেন না। নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ তেল নিতে এলে অ্যাপের মাধ্যমে তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এ সময় তিনি গ্রাহকদের নতুন নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান।

প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত কার্ডের মাধ্যমে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাধারণ গ্রাহকেরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন পেট্রল পাম্পে অতিরিক্ত ভিড় কমবে, অন্যদিকে অবৈধ মজুদ ও অনিয়মও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই অ্যাপ সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।